১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৫শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি সকাল ১০:৩৯ বৃহস্পতিবার শীতকাল
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের টিকিটের মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়া নিয়ে ফিফার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন ফুটবল ফ্যান গ্রুপ। টিকিটের এই নতুন মূল্য কাঠামোর কড়া সমালোচনা করে তারা অবিলম্বে টিকিট বিক্রি স্থগিত রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

কেন ক্ষুব্ধ সমর্থকরা?
সমর্থকদের অভিযোগ, জাতীয় দলের জন্য বরাদ্দকৃত টিকিটের (PMA Tickets) দাম এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। এই দামকে তারা ‘জুলুম’ এবং ‘অকল্পনীয়’ বলে অভিহিত করেছেন। বিশেষ করে, যেসব অনুগত সমর্থক তাদের প্রিয় দলের প্রথম ম্যাচ থেকে ফাইনাল পর্যন্ত মাঠে বসে খেলা দেখতে চান, তাদের জন্য এই খরচ বহন করা প্রায় অসম্ভব। ‘ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপ’ (FSE)-এর দেওয়া তথ্যমতে, একজন নিয়মিত সমর্থকের জন্য এবারের বিশ্বকাপে সব ম্যাচ দেখার খরচ ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি হতে পারে।
টিকিটের দাম ও উদ্বেগের কারণ
রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালের কিছু প্রিমিয়াম সিটের দাম কয়েক হাজার ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এমনকি ফ্যানদের জন্য বরাদ্দকৃত ফাইনালের সবচেয়ে কম দামি টিকিটও হাজার ডলার বা পাউন্ডের ঘরে। ফ্যান গ্রুপগুলোর দাবি, এর সঙ্গে যখন বিমান ভাড়া এবং থাকা-খাওয়ার খরচ যোগ করা হয়, তখন একটি পরিবারের পক্ষে কয়েকটি ম্যাচ দেখার মোট খরচ হাজার হাজার ডলারে গিয়ে ঠেকবে। তাদের মতে, ফিফা বিশ্বকাপকে কার্যত একটি ‘কপোরেট টুর্নামেন্টে’ পরিণত করছে, যেখানে সাধারণ মধ্যবিত্ত দর্শকদের কোনো স্থান নেই।
সমর্থকদের সঙ্গে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’
সমর্থক সংগঠনগুলো ফিফার এই নীতিকে বিশ্বকাপের ঐতিহ্য এবং স্টেডিয়ামের প্রাণ ভ্রমণকারী সমর্থকদের সঙ্গে ‘চরম বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে আখ্যায়িত করেছে। তাদের মূল অভিযোগগুলোর মধ্যে একটি হলো, ক্যাটাগরি-৪ এর মতো কম দামি টিকিটগুলো জাতীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে সবচেয়ে অনুগত ফ্যানদের না দিয়ে, ‘ডাইনামিক প্রাইসিং’ পদ্ধতির মাধ্যমে সাধারণ দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
নতুন প্রাইসিং মডেলের জটিলতা
২০২৬ আসরের জন্য ফিফা একটি পরিবর্তনশীল বা ভেরিয়েবল প্রাইসিং মডেল চালু করেছে। এই নিয়ম অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোর ‘আকর্ষণীয়তা’ বিবেচনা করে একই ক্যাটাগরির টিকিটের দাম ভিন্ন হতে পারে। অর্থাৎ, দলভেদে সমর্থকদের টিকিটের জন্য কম বা বেশি অর্থ খরচ করতে হবে। সমর্থকরা বলছেন, কোন মানদণ্ডে এই দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ অস্পষ্ট এবং এটি ফিফার পূর্ববর্তী প্রতিশ্রুতির (যেখানে গ্রুপ পর্বের টিকিটের দাম কম হওয়ার কথা ছিল) সম্পূর্ণ বিপরীত।
দাবি কী?
এই পরিস্থিতিতে এফএসই (FSE) এবং অন্যান্য জাতীয় সমর্থক গোষ্ঠীগুলো ফিফার কাছে বর্তমান পিএমএ টিকিট বিক্রি প্রক্রিয়া অবিলম্বে থামিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। তারা চায়, ফিফা যেন সমর্থক প্রতিনিধি এবং সদস্য দেশগুলোর ফুটবল সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসে। তাদের লক্ষ্য হলো টিকিটের একটি সংশোধিত ও ন্যায্য কাঠামো তৈরি করা, যা বিশ্বকাপের সর্বজনীনতা এবং সাংস্কৃতিক গুরুত্বকে সম্মান জানাবে।
Analysis | Habibur Rahman
