১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৫শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি দুপুর ১২:১১ বৃহস্পতিবার শীতকাল
রাজনৈতিক মতাদর্শে তারা দুই মেরুর বাসিন্দা। একজন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, অন্যজন সমাজতান্ত্রিক ঘরানার নবনির্বাচিত নিউইয়র্ক মেয়র জোহরান মামদানি। দীর্ঘদিনের বাহাস আর পাল্টাপাল্টি সমালোচনার পর অবশেষে মুখোমুখি হলেন এই দুই নেতা। হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে তাদের বৈঠক হলো অপ্রত্যাশিত রকম হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে। তবে বৈঠকের সেই উষ্ণতা কাটতে না কাটতেই মামদানি জানিয়ে দিলেন, ট্রাম্প সম্পর্কে তার পুরোনো মূল্যায়নে কোনো পরিবর্তন আসেনি; তিনি প্রেসিডেন্টকে এখনো ‘ফ্যাসিবাদী’ বলেই মনে করেন।
গত শুক্রবার (২১ নভেম্বর) ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত প্রায় এক ঘণ্টার এই বৈঠকে ট্রাম্প ও মামদানির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল নিউইয়র্কের আবাসন সংকট, বিদ্যুৎ বিল কমানোর কৌশল এবং স্থানীয় আইনি জটিলতা নিরসন।

ছবি: রয়টার্স
হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে, মামদানির সঙ্গে তার উপদেষ্টা ও প্রেস সচিব থাকলেও ওভাল অফিসের মূল বৈঠকে প্রবেশের অনুমতি পান শুধু তার চিফ অব স্টাফ এলে বিসগার্ড–চার্চ। অন্যদিকে ট্রাম্পের পক্ষে ছিলেন তার চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলস।
আলোচনা শেষে ট্রাম্প নিজেই মামদানিকে নিয়ে যান ক্যাবিনেট রুমে। সেখানে সাবেক প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্টের ছবির সামনে দাঁড়িয়ে দুজনে ছবি তোলেন। ছবিতে ট্রাম্পকে তার স্বভাবসুলভ ‘থাম্বস আপ’ ভঙ্গি এবং মামদানিকে মৃদু হাসতে দেখা যায়। পরবর্তীতে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ সেই ছবি পোস্ট করে ট্রাম্প লেখেন, ‘নিউইয়র্কের নতুন মেয়রের সঙ্গে বৈঠক হওয়াটা অত্যন্ত সম্মানজনক।’ তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, তারা অনেক বিষয়ে একমত হয়েছেন, যা তিনি কল্পনাও করেননি।
নিউইয়র্ক একটি ‘স্যাংকচুয়ারি সিটি’ হওয়ায় ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছিল। মামদানি সিএনএনকে জানান, তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে অভিবাসন ইস্যুতেও কথা বলেছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ফেডারেল সরকার তার সীমার মধ্যে থাকলে নগর কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা করবে, তবে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে দেবে না।
মজার বিষয় হলো, নিউইয়র্কে ফেডারেল সেনা পাঠানোর যে হুমকি ট্রাম্প আগে দিয়েছিলেন, বৈঠকের পর সেই সুর অনেকটাই নরম শোনা গেছে। ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছেন, নগর কর্তৃপক্ষ সাহায্য না চাইলে তিনি অযথা সেনা পাঠাবেন না।
হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে ‘বন্ধুসুলভ’ আচরণের পর অনেকেই ভেবেছিলেন হয়তো মামদানির রাজনৈতিক সুরে পরিবর্তন আসবে। কিন্তু রবিবার এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে সেই ধারণা ভেঙে দেন নিউইয়র্কের নতুন মেয়র।
উপস্থাপক যখন জানতে চান, তিনি এখনো ট্রাম্পকে ‘ফ্যাসিবাদী’ মনে করেন কি না—জবাবে মামদানি বলেন, ‘অতীতে যা কিছু বলেছি, তাতে আমি অটল। এ বিষয়ে আমি আগেও হ্যাঁ বলেছিলাম, আজও আমি তাই বলছি।’
ব্রঙ্কসের এক চার্চে দেওয়া বক্তব্যে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে মামদানি বলেন, দায়িত্ব পালনের স্বার্থে ঘোর বিরোধীদের সঙ্গে কাজ করাটা তার কর্তব্যের অংশ। ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক বা ছবি তোলা সেই পেশাদার সম্পর্কেরই বহিঃপ্রকাশ, আদর্শিক আপস নয়।
Analysis | Habibur Rahman
