১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি বিকাল ৫:১০ সোমবার বসন্তকাল
টানা উর্ধ্বমুখী থাকার পর অবশেষে দেশের বাজারে কিছুটা নমনীয় হলো স্বর্ণের দাম। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা ও দরপতনের সরাসরি প্রভাবে বাংলাদেশেও স্বর্ণের মূল্য সমন্বয় করার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ভরিতে ১ হাজার ৩৬৪ টাকা কমানো হয়েছে।
মঙ্গলবার বাজুসের ‘স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং’-এর এক জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটে তেজাবী স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম কমার কারণেই সামগ্রিক বাজারে এই মূল্যহ্রাস করা সম্ভব হয়েছে। নতুন এই দর ১৯ নভেম্বর ২০২৫, বুধবার থেকে সারা দেশে কার্যকর হবে।
বাজুসের হালনাগাদ বিজ্ঞপ্তি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মানভেদে প্রতিটি ক্যাটাগরিতেই দাম কমানো হয়েছে।
সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ১,৩৬৪ টাকা কমিয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬ হাজার ৯০৮ টাকা, যা আগে ছিল ২ লাখ ৮ হাজার ২৭২ টাকা।
একইভাবে ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ১,৩০৬ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৪১৫ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট মানের স্বর্ণের দাম ১,১০৮ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৬৯ হাজার ২৯১ টাকা ধার্য করা হয়েছে। অন্যদিকে, সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দামও ভরিতে ৯৫৭ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪০ হাজার ৭৬১ টাকায়।
মূল্যহ্রাসের এই সংবাদ ক্রেতাদের জন্য স্বস্তিদায়ক হলেও, বাজুস স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে ঘোষিত দরটি শুধুমাত্র স্বর্ণের ভিত্তিমূল্য। এর সাথে জুয়েলারি শোরুমগুলো সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং গয়না তৈরির মজুরি বা মেকিং চার্জ বাবদ নূন্যতম ৬ শতাংশ অর্থ যোগ করবে। ফলে চূড়ান্ত গয়না কেনার সময় ক্রেতাকে এই বাড়তি অর্থ গুনতে হবে।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দরে যে নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তা অব্যাহত থাকলে আগামীতে দেশের বাজারেও এর আরও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। আপাতত বিয়ের মৌসুমে এই সামান্য মূল্যহ্রাসও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি বয়ে আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।
Analysis | Habibur Rahman


