১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৫শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি সকাল ১০:৪৩ বৃহস্পতিবার শীতকাল
অভিনয়ের ক্যামেরার বাইরেও তাঁর রয়েছে এক রঙিন ভুবন, যেখানে ক্যানভাস আর তুলির সঙ্গে তাঁর আজন্মের সখ্য। তিনি চঞ্চল চৌধুরী, দেশের অন্যতম সেরা অভিনেতার পরিচয়ের পাশাপাশি একজন জাত শিল্পীও বটে। অভিনয়ের ব্যস্ততায় সেই শিল্প সত্তা কিছুটা আড়ালে থাকলেও, মঙ্গলবার দুপুরে তা আবারও স্বমহিমায় উদ্ভাসিত হলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এবার তাঁর তুলির টানে জীবন্ত হয়ে উঠলেন এ প্রজন্মের জনপ্রিয় অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণ ও নাট্যকার হাফিজ রেদু।
কেবল দুটি মুখচ্ছবি এঁকেই থেমে যাননি চঞ্চল। এর সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন জীবন ও সৃষ্টিশীলতা নিয়ে তাঁর গভীর পর্যবেক্ষণ। ফেসবুকে স্কেচ দুটি শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, চরিত্রের গভীরে ডুব দিয়ে নিখুঁত অভিনয় যেমন তাঁকে অনাবিল আনন্দ দেয়, ঠিক তেমনি একটি ছবি আঁকার মধ্যেও তিনি খুঁজে পান বেঁচে থাকার স্পন্দন। তাঁর ভাষায়, “বেঁচে থাকার জন্য এই আনন্দের বিকল্প আমার কাছে নেই।”

চঞ্চল চৌধুরীর এই পোস্টে কেবল শিল্পের প্রতি তাঁর ভালোবাসা নয়, ফুটে উঠেছে এক দার্শনিক বার্তাও। তিনি প্রশ্ন রেখেছেন, ক্ষণস্থায়ী এই জীবনে আমরা কীর্তিমান হতে চাই, নাকি ঘৃণা ছড়িয়ে হারিয়ে যেতে চাই? তাঁর মতে, একটি ভালো কাজ বা সৃষ্টিই পারে শিল্পীকে মৃত্যুর পরেও মানুষের স্মৃতিতে বাঁচিয়ে রাখতে। এই গভীর বার্তার সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন তাঁর ভক্ত ও সহকর্মীরা।
গুরুর এমন ভালোবাসায় আপ্লুত তাসনিয়া ফারিণ। চঞ্চলের আঁকা নিজের স্কেচটি নিজের ওয়ালে শেয়ার করে তিনি ক্যাপশনে লিখেছেন, “এক ও অদ্বিতীয় চঞ্চল চৌধুরী।” 선배 শিল্পীর কাছ থেকে পাওয়া এই সম্মান ও স্নেহকে তিনি বরণ করে নিয়েছেন পরম শ্রদ্ধায়।
উল্লেখ্য, চঞ্চল চৌধুরীর শিল্পের এই শেকড় প্রোথিত অনেক গভীরে। ১৯৯২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে ভর্তির মাধ্যমে তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিল্পচর্চা শুরু হলেও, আঁকার প্রতি ঝোঁক ছিল শৈশব থেকেই। গ্রামের বিয়েবাড়িতে আলপনা আঁকা থেকে শুরু করে পাঠ্যবইয়ের পাতায় আঁকিবুঁকি, সবকিছুই ছিল তাঁর শিল্পী হয়ে ওঠার পথের অংশ। জয়নুল আবেদিন, পাবলো পিকাসোর মতো বিশ্ববরেণ্য শিল্পীদের কাজ তাঁকে যেমন অনুপ্রাণিত করে, তেমনি রফিকুন নবীর মতো শিক্ষকদের সান্নিধ্য তাঁর শিল্পযাত্রাকে করেছে সমৃদ্ধ।
দিনশেষে চঞ্চল চৌধুরীর কাছে অভিনয় আর চিত্রকলা—দুটিই সৃষ্টির ভিন্ন ভিন্ন রূপ। তাঁর মতে, মাধ্যম যা-ই হোক না কেন, একটি ভালো কাজই সময়, সমাজ ও স্মৃতির ক্যানভাসে শিল্পীকে অমর করে রাখে।
Analysis | Habibur Rahman


