.
অন্যান্য

৫ দফা দাবিতে পল্টনে বিশাল সমাবেশ | ইসলামী দলগুলোর যুগপৎ আন্দোলন | Dhaka Politics

Email :70

১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি সকাল ১০:১২ সোমবার বসন্তকাল

আজ দুপুরের পর থেকে ঢাকার পল্টন মোড় শুধু একটি ভৌগোলিক অবস্থান ছিল না, ছিল একটি রাজনৈতিক বার্তার কেন্দ্রবিন্দু। আজ পল্টনের গর্জন শুধু ক্ষমতার পালাবদলের জন্য ছিল না; এই গর্জন ছিল দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক দাবা খেলার নিয়মকেই নতুন করে লিখতে চায়। প্রায় ৮টি ইসলামী ও সমমনা দলের এই যুগপৎ সমাবেশ প্রচলিত সরকারবিরোধী আন্দোলনের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে, তাদের মূল লক্ষ্য এখন আর শুধু নির্বাচন নয়, বরং নির্বাচনের পদ্ধতি।
সমাবেশে উত্থাপিত পাঁচ দফা দাবির মধ্যে সবচেয়ে বেশি কেড়েছে ‘আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (PR)’ বা ভোটের হার অনুযায়ী আসন বণ্টনের দাবিটি। এটি কোনো সাধারণ দাবি নয়, বরং একটি কৌশলগত চাল যা দেশের দুই-দলীয় রাজনৈতিক অচলায়তন ভাঙার একটি সুস্পষ্ট প্রচেষ্টা। জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মতো দলগুলো উপলব্ধি করেছে যে, বিদ্যমান ‘ফাস্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট’ বা যে জিতেছে সে-ই বিজয়ী (winner-takes-all) পদ্ধতিতে তাদের প্রাপ্ত ভোটের তুলনায় সংসদে প্রতিনিধিত্ব অনেক কম। PR ব্যবস্থা চালু হলে, সারাদেশে পাওয়া ভোটের একটি নির্দিষ্ট শতাংশের ভিত্তিতে তারা সংসদে আসন নিশ্চিত করতে পারবে, যা তাদের দর-কষাকষির ক্ষমতা বহুগুণে বাড়িয়ে দেবে।

অন্যান্য দাবি, যেমন—জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন, গণভোট আয়োজন এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা—এই কেন্দ্রীয় দাবিকে ঘিরে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বাতাবরণ তৈরির সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করছে।

ঐক্যের বার্তা ও রাজপথের শক্তি প্রদর্শন
আজকের সমাবেশটি ছিল একটি সুসংগঠিত শক্তি প্রদর্শনী। দুপুর গড়ানোর সাথে সাথে বিভিন্ন মিছিল পল্টনের দিকে অগ্রসর হয়, যা একটি ঐক্যবদ্ধ বার্তা দেয় যে—তাদের দাবি আদায়ের প্রশ্নে তারা আপসহীন। এই সমাবেশের কারণে পল্টন থেকে কাকরাইল পর্যন্ত সড়কের স্থবিরতা শুধু যানজট ছিল না, এটি ছিল কার্যত রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ অচল করে দিয়ে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি জানান দেওয়ার প্রতীক।

উপসংহার:
আজকের পল্টনের সমাবেশকে শুধু একটি বিচ্ছিন্ন আন্দোলন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি তৃতীয় ধারার উত্থানের ইঙ্গিত, যা প্রচলিত ক্ষমতার বলয়ের বাইরে গিয়ে ব্যবস্থার কাঠামোগত পরিবর্তন চাইছে। সরকার বা প্রধান বিরোধী দলগুলো এই দাবিগুলোকে কীভাবে মোকাবিলা করবে, তার ওপরই নির্ভর করছে দেশের আগামী রাজনীতির গতিপথ। পল্টনের আজকের সমাবেশ কি একটি ক্ষণস্থায়ী রাজনৈতিক উত্তেজনা, নাকি দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের সূচনাবিন্দু—সে উত্তর দেবে।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts