.
আন্তর্জাতিক

৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম: ইরানকে ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারি, বাড়ছে যুদ্ধের আশঙ্কা

Email :3

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump। তিনি ইরানকে সরাসরি ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন—এই সময়ের মধ্যে দাবি না মানলে দেশটির ওপর “নরক নেমে আসবে”।

শনিবার (৪ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। তিনি দাবি করেন, ইরান যদি আলোচনায় না আসে এবং Hormuz Strait পুনরায় খুলে না দেয়, তাহলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

১০ দিনের সময়সীমা থেকে ৪৮ ঘণ্টা

ট্রাম্প জানান, এর আগে ইরানকে ১৪ দফা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ১০ দিনের সময় দেওয়া হয়েছিল। তবে আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতির দাবি করে তিনি কয়েক দফা সময়সীমা বাড়িয়েছিলেন। এখন সেই সময়সীমা সংকুচিত করে মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় নামিয়ে আনা হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

প্রস্তর যুগে পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি

এই সপ্তাহেই ট্রাম্প আরও কঠোর ভাষায় বলেন, প্রয়োজনে ইরানকে বোমা হামলার মাধ্যমে “প্রস্তর যুগে” পাঠিয়ে দেওয়ার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। শুধু তাই নয়, তিনি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার ইঙ্গিতও দিয়েছেন—যা আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

পাল্টাপাল্টি হামলায় বাড়ছে উত্তেজনা

এদিকে উত্তেজনা শুধু কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। যুক্তরাষ্ট্র ও Israel যৌথ হামলায় একটি বড় পেট্রোকেমিক্যাল প্ল্যান্টের বিদ্যুৎ সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি একটি পারমাণবিক স্থাপনার বাইরের অংশেও ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে ইরানও পাল্টা জবাব দিতে শুরু করেছে। তারা দাবি করেছে, Dubai-এর একটি মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া Kuwait-এ জেট ফুয়েল উৎপাদনকারী একটি স্থাপনাতেও আঘাত হানার কথা জানিয়েছে তারা। একই সঙ্গে পারস্য উপসাগর অঞ্চলে মার্কিন জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে আরও হামলার হুমকিও দিয়েছে তেহরান।

যুদ্ধের নতুন মাত্রা

পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে দক্ষিণ ইরানে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার খবর। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাইলটকে উদ্ধার করা গেলেও অস্ত্র সিস্টেম অফিসার এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

কী দিকে যাচ্ছে পরিস্থিতি?

বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত সময়সীমা নির্ধারণ, কঠোর ভাষার ব্যবহার এবং পাল্টাপাল্টি হামলা—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি একটি পূর্ণাঙ্গ সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

সব মিলিয়ে, আগামী ৪৮ ঘণ্টা মধ্যপ্রাচ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের মধ্যেই নির্ধারিত হতে পারে—পরিস্থিতি আলোচনার টেবিলে ফিরবে, নাকি আরও বড় সংঘাতে জড়িয়ে পড়বে বিশ্ব।

Related Tag:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts