৭ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২১শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১লা শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি বিকাল ৩:৫০ শনিবার বসন্তকাল
ফুটবল মাঠের রাজা তিনি, জীবনযাপনেও বজায় রাখেন সেই রাজকীয় ভাব। অবসরের পর আয়েশি জীবন কাটানোর লক্ষ্যে পর্তুগালে স্বপ্নের এক বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। কিন্তু দীর্ঘ ছয় বছর ধরে তিল তিল করে গড়ে তোলা সেই বিলাসবহুল ‘রিটায়ার্ড হোম’ বা অবসরকালীন আবাসনটি নাকি বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পর্তুগিজ মহাতারকা!
প্রায় ৩৬৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা (২ কোটি ৫০ লাখ ইউরো) ব্যয়ে নির্মিত এই প্রাসাদটি পর্তুগালের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ব্যক্তিগত আবাসন হিসেবে ইতিমধ্যেই আলোচনার শীর্ষে। তবে গুঞ্জন উঠেছে, বাড়িটির চাবি শেষ পর্যন্ত রোনালদোর হাতে থাকলেও, তিনি বা তাঁর পরিবার সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস নাও করতে পারেন।
ছয় বছরের প্রতীক্ষা ও আভিজাত্যের ছোঁয়া
২০২০ সালে আটলান্টিক মহাসাগরের তীরঘেঁষা কাসকাইস অঞ্চলে এই বিশাল প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। প্রায় ছয় বছরের দীর্ঘ নির্মাণযজ্ঞ শেষে এটি এখন বসবাসের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। স্প্যানিশ সাময়িকী ‘সেমানা’র তথ্যমতে, বাড়িটির বর্তমান বাজারমূল্য এবং এর স্থাপত্যশৈলী এটিকে পর্তুগালের রিয়েল এস্টেট বাজারে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
সমুদ্র থেকে মাত্র ২০০ মিটার দূরে অবস্থিত এই বাড়িটি দাঁড়িয়ে আছে ১২ হাজার বর্গমিটার জমির ওপর, যার মধ্যে বসবাসযোগ্য জায়গাই প্রায় ৫ হাজার বর্গমিটার। রোনালদো এবং তাঁর সঙ্গিনী জর্জিনা রদ্রিগেজের ব্যক্তিগত পছন্দ ও রুচির সংমিশ্রণে সাজানো হয়েছে এর অন্দরমহল।
কী নেই এই প্রাসাদে?
বাড়িটিকে বলা হচ্ছে আধুনিক স্থাপত্য ও বিলাসিতার এক নিখুঁত সংমিশ্রণ। এর উল্লেখযোগ্য সুবিধাসমূহ হলো:
- বিশাল গ্যারেজ: একসঙ্গে ২০টি বিলাসবহুল গাড়ি রাখার মতো সুপরিসর গ্যারেজ।
- বিনোদন ও স্বাস্থ্য: ব্যক্তিগত সিনেমা হল, অত্যাধুনিক জিম, স্পা এবং ইনডোর ও আউটডোর—উভয় ধরনের সুইমিংপুল।
- প্রকৃতি: সুপ্রশস্ত বাগান এবং আটলান্টিকের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখার ব্যবস্থা।
- পরিবেশ: বাড়িটিকে ঘিরে রয়েছে গলফ কোর্স ও একটি অশ্বারোহী কেন্দ্র।
হঠাৎ কেন বিক্রির ভাবনা?
এত আয়োজন ও অর্থ ব্যয়ের পর কেন বাড়িটি বিক্রির কথা ভাবছেন ‘সিআর সেভেন’? পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, এর মূল কারণ ‘গোপনীয়তা’ বা প্রাইভেসি নিয়ে উদ্বেগ।
৪০ বছর বয়সী আল-নাসর তারকা চেয়েছিলেন বাড়ির চারপাশের নিরাপত্তাবলয় আরও সুদৃঢ় করতে আশেপাশের কিছু জমিও কিনে নিতে। কিন্তু পাশেই অবস্থিত পাঁচ তারকা হোটেল ‘দ্য ওভিতাভোস’ এবং একটি গলফ ক্লাবের মালিকানাধীন থাকায় সেই জমি কেনা সম্ভব হয়নি। ফলে নিজের ও পরিবারের একান্ত ব্যক্তিগত মুহূর্তগুলো সাধারণের চোখের আড়ালে রাখা কঠিন হতে পারে—এমন শঙ্কায় এই প্রজেক্ট থেকে সরে আসার কথা ভাবছেন তিনি।
বিক্রির আগে বিয়ের সানাই?
বাড়িটি বিক্রির গুঞ্জন থাকলেও এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আরেকটি চমকপ্রদ তথ্য। পর্তুগিজ বিনোদন মাধ্যম ‘ভি+ ফামা’ জানিয়েছে, মালিকানা বদলানোর আগে এই প্রাসাদেই জর্জিনা রদ্রিগেজের সঙ্গে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সারতে পারেন রোনালদো। অর্থাৎ, স্থায়ীভাবে বসবাস না করলেও জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায়ের সাক্ষী হতে পারে এই ৩৬৩ কোটি টাকার বিলাসবহুল ভবন।
বর্তমানে সৌদি আরবে ফুটবল ক্যারিয়ারে ব্যস্ত সময় পার করা রোনালদো সত্যিই তাঁর এই স্বপ্নের বাড়ি বিক্রি করে দেবেন, নাকি গোপনীয়তার নতুন কোনো সমাধান খুঁজে বের করবেন—তা সময়ই বলে দেবে। তবে আপাতত পর্তুগালের সবচেয়ে দামি এই বাড়িটি ক্রেতার খোঁজে রয়েছে বলেই জোর আলোচনা চলছে।
Analysis | Habibur Rahman
