১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৫শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি সকাল ৭:১২ বৃহস্পতিবার শীতকাল
২০২৬ সালকে স্বাগত জানাতে বিশ্ববাসী যখন দিন গুনছে, ঠিক তখনই ডিজাইনের দুনিয়ায় আগামীর ট্রেন্ড ঠিক করে দিল বিশ্বখ্যাত মার্কিন প্রতিষ্ঠান প্যানটোন। প্রতিবারের মতো এবারও তারা ঘোষণা করেছে ‘কালার অব দ্য ইয়ার’ বা বর্ষসেরা রং। ২০২৬ সালের জন্য প্যানটোন বেছে নিয়েছে স্নিগ্ধ ও শান্ত একটি শেড, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ক্লাউড ড্যান্সার’ (Cloud Dancer)।

কেমন এই ‘ক্লাউড ড্যান্সার’?
প্যানটোনের কালার চার্টে এই রঙের কোড হলো Pantone 11-4201 (#F0EFEA)। সাধারণ চোখে দেখলে একে সাদা রং বলেই মনে হবে। তবে ভালো করে লক্ষ্য করলে এর মাঝে খুব হালকা হলদেটে বা ক্রিম রঙের আভা খুঁজে পাওয়া যায়। গত কয়েক বছর ধরে ফ্যাশন বিশ্বে গাঢ় ও উজ্জ্বল রঙের দাপট ছিল। ২০২৫ সালেও প্যানটোনের পছন্দ ছিল ‘মোকা মুস’ নামের একটি বাদামি শেড। তবে এবার সেই ধারা ভেঙে প্যানটোন ফিরে এসেছে শুভ্রতা ও সাদার কাছাকাছি।
কেন এই রং বেছে নেওয়া হলো?
বর্তমান বিশ্বের অস্থিরতা, যুদ্ধবিগ্রহ এবং মানুষের যান্ত্রিক জীবনযাপনকে মাথায় রেখেই এই রংটি নির্বাচন করা হয়েছে। প্যানটোন কালার ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক লিয়েট্রিস আইজম্যান মনে করেন, এই ব্যস্ত সময়ে মানুষ একটু স্বস্তি খোঁজে। তিনি বলেন, ‘ক্লাউড ড্যান্সার’ হলো একটি খালি ক্যানভাসের মতো। এটি আমাদের অণুপ্রেরণা দেয় ব্যস্ততাকে একপাশে রেখে নতুন করে জীবনকে সাজানোর। এটি অস্থির সময়ে প্রশান্তির প্রতীক।
ফ্যাশন ও বাণিজ্যে প্রভাব
প্যানটোন মূলত ‘প্যানটোন ম্যাচিং সিস্টেম (পিএমএস)’ ব্যবহারের মাধ্যমে রং শনাক্তকরণ ও মান নিয়ন্ত্রণে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। টেক্সটাইল, গ্রাফিক ডিজাইন, প্রিন্টিং কিংবা ইন্টেরিয়র ডিজাইনে তাদের ঘোষিত রংটিই সারা বছর ট্রেন্ডে থাকে। অর্থাৎ, ২০২৬ সালে পোশাকে, ঘরের পর্দায় কিংবা পণ্যের প্যাকেজিংয়ে ‘ক্লাউড ড্যান্সার’-এর আধিপত্য দেখা যাবে।
২০২৬ সালের রং হলেও ফ্যাশন সচেতন তারকারা এখনই এই রঙের প্রেমে পড়েছেন। সম্প্রতি মেট গালায় মার্কিন গায়িকা ডায়ানা রসকে এই রঙের ১৮ ফুট লম্বা ট্রেইলযুক্ত পোশাকে দেখা গেছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক তারকা প্রিয়াঙ্কা চোপড়াও ‘বুলগারি’র একটি অনুষ্ঠানে ‘ক্লাউড ড্যান্সার’ শেডের পোশাকে নজর কেড়েছেন।
সব মিলিয়ে, আগামী বছরটি যে চড়া রঙের বদলে স্নিগ্ধতা ও শান্তির বার্তাবাহক ‘ক্লাউড ড্যান্সার’-এর দখলে থাকতে যাচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।
Analysis | Habibur Rahman