১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৫শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি দুপুর ১:৪৪ বৃহস্পতিবার শীতকাল
চট্টগ্রামের অপরাধ জগতের অন্যতম আলোচিত নাম সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ। হত্যা, চাঁদাবাজি ও অস্ত্রবাজির অভিযোগ মাথায় নিয়ে কারাগারে থাকলেও আইনি প্রক্রিয়ায় বড় অগ্রগতি পেয়েছেন তিনি ও তার স্ত্রী শারমিন তামান্না। সম্প্রতি উচ্চ আদালত থেকে চারটি হত্যা মামলায় জামিন পেয়েছেন এই দম্পতি। তবে একাধিক মামলা বিচারাধীন থাকায় এখনই কারামুক্তি ঘটছে না তাদের।
আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত সেপ্টেম্বরের শেষ ভাগেই হাইকোর্ট থেকে তাদের জামিন আদেশ হয়। চলতি সপ্তাহে সেই আদেশের নথিপত্র চট্টগ্রাম আদালতে পৌঁছানোর পরই বিষয়টি জানাজানি হয়।

জামিন পেলেন যেসব মামলায়
সাজ্জাদ ও তামান্না যেসব মামলায় জামিন পেয়েছেন, তার মধ্যে তিনটিই ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। এর মধ্যে রয়েছে চান্দগাঁও থানার দোকান কর্মচারী শহিদুল ইসলাম হত্যা, পাঁচলাইশ থানার ওয়াসিম আকরাম হত্যা এবং দোকান কর্মচারী মো. ফারুক হত্যা মামলা। এছাড়াও চান্দগাঁও থানার আফতাব উদ্দিন হত্যা মামলায়ও তাদের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। গত ১৫ ও ২২ সেপ্টেম্বর পৃথক আদেশে রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাদের জামিন দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের অবস্থান
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, জামিনের আদেশ চট্টগ্রাম আদালতে পৌঁছেছে। তবে রাষ্ট্রপক্ষ এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি বলেন, “অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের সাথে কথা হয়েছে। আমরা জামিন স্থগিতের আবেদন করব। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে আরও অনেক গুরুতর মামলা থাকায় এখনই তারা কারাগার থেকে বের হতে পারছেন না।”
ভাইরাল ভিডিও ও গ্রেপ্তার প্রসঙ্গ
চলতি বছরের ১৫ মার্চ ঢাকার একটি বিপণিবিতান থেকে সাজ্জাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে সাজ্জাদের স্ত্রী তামান্নাকে ‘টাকার বান্ডিল ছুড়ে’ স্বামীকে জামিনে বের করে আনার দম্ভোক্তি করতে দেখা যায়। এই ভিডিও ভাইরালের পরপরই পুলিশ তামান্নাকেও গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানায়, সাজ্জাদের বিরুদ্ধে ১০টি হত্যাসহ মোট ১৯টি এবং তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ৮টি মামলা রয়েছে। নিরাপত্তার কারণে গত মাসে তাদের চট্টগ্রাম কারাগার থেকে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে সাজ্জাদ রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে এবং তামান্না ফেনী জেলা কারাগারে বন্দি আছেন।
জেলে থেকেও সক্রিয় বাহিনী
সাজ্জাদ কারাগারে থাকলেও তার বাহিনীর সন্ত্রাসীরা বাইরে এখনো বেপরোয়া। পুলিশের গোয়েন্দা তথ্য বলছে, রায়হান, ইমন, কাদের ও নাজিমসহ কয়েকজন বর্তমানে এই বাহিনী পরিচালনা করছেন। এর জেরে গত ৫ নভেম্বর নগরীতে এক রাজনৈতিক দলের গণসংযোগে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। সেখানে সরোয়ার হোসেন বাবলা নামের এক সন্ত্রাসী নিহত হন, যিনি নিজেও ১৫ মামলার আসামি ছিলেন। অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা পুলিশের।
সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকায় এবং মূল হোতারা জামিন পাওয়ায় জনমনে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, অপরাধীদের দমনে তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
Analysis | Habibur Rahman