.
রাজনীতি

১৭ বছর পর ভোটার তালিকায় নাম লেখালেন তারেক রহমান: সম্পন্ন হলো এনআইডি নিবন্ধন প্রক্রিয়া

Email :34

১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি সন্ধ্যা ৭:৩৫ সোমবার বসন্তকাল

দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ প্রবাস জীবন কাটিয়ে দেশে ফেরার মাত্র দুদিন পরই বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে ভোটার তালিকায় নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে উপস্থিত হয়ে তিনি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) প্রাপ্তি ও ভোটার হওয়ার যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।

ভোটার হওয়া ও জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সারতে আজ শনিবার দুপুরে ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে তারেক রহমানছবি : তানভীর আহাম্মেদ

এর আগে ২০০৮ সালে যখন বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা হয়, তখন সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে কারামুক্ত হয়ে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে অবস্থান করছিলেন তারেক রহমান। দীর্ঘ সময় বিদেশে থাকার কারণে এতোদিন দেশের ভোটার তালিকায় তার নাম ছিল না। অবশেষে দেশে ফিরে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথ সুগম করতে তিনি এই নিবন্ধন প্রক্রিয়া সারলেন।

নিবন্ধনের প্রক্রিয়া ও আনুষ্ঠানিকতা
শনিবার বেলা ১টার দিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের পেছনে অবস্থিত নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে পৌঁছান বিএনপির এই শীর্ষ নেতা। ভবনের নিচতলায় প্রবাসীদের ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের (ভিআইপি) এনআইডি সেবা দেওয়ার জন্য নির্ধারিত বিশেষ কক্ষে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে তারেক রহমানের বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে ছিল ছবি তোলা, চোখের আইরিশ স্ক্যান করা, দশ আঙুলের ছাপ দেওয়া এবং ডিজিটাল স্বাক্ষর প্রদান। এ সময় নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পুরো প্রক্রিয়ার তদারকি করেন।

এনআইডি উইংয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) এ এস এম হুমায়ুন কবীর সাংবাদিকদের জানান, ভোটার হওয়ার স্বাভাবিক নিয়ম মেনেই তারেক রহমানের তথ্য নেওয়া হয়েছে। সংগৃহীত বায়োমেট্রিক তথ্য ইসির কেন্দ্রীয় সার্ভারে আপলোড করার পর বিদ্যমান ডেটাবেজের সঙ্গে ‘ক্রসম্যাচ’ করা হবে। সব তথ্য সঠিক থাকলে সফটওয়্যারের মাধ্যমে একটি এনআইডি নম্বর জেনারেট হবে। এই যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় সাধারণত ৫ থেকে ১০ ঘণ্টা বা ক্ষেত্রবিশেষে কম-বেশি সময় লাগতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সকালের কর্মসূচি ও চলাফেরা
এনআইডি নিবন্ধনের আগে শনিবার সকালে গুলশানের বাসভবন থেকে দিনের কর্মসূচি শুরু করেন তারেক রহমান। তবে দেশে ফেরার পর গত দুই দিন তাকে লাল-সবুজ রঙের খোলা বাসে দেখা গেলেও, এদিন তিনি বের হন ফুল দিয়ে সুসজ্জিত একটি সাদা রঙের এসইউভি গাড়িতে চড়ে।

সকালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যান এবং সেখানে জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করেন। সেখানে দোয়া ও মোনাজাত শেষে নেতাকর্মীদের বিশাল বহর পরিবেষ্টিত হয়ে তিনি আগারগাঁওয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী ২৭ ডিসেম্বরই তিনি ভোটার হওয়ার কাজ সারবেন বলে আগেই জানিয়েছিল বিএনপি, এবং নির্বাচন কমিশনও সে অনুযায়ী প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিল।

নির্বাচনী প্রস্তুতি ও প্রার্থিতা
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন গত ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণা করেছে। যদিও ভোটার তালিকা ইতিমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে, তবুও আইন অনুযায়ী যোগ্যতাসম্পন্ন যে কেউ নির্বাচনের আগে ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েই তারেক রহমান ভোটার হলেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন নির্বাচনে তিনি তার পৈতৃক নিবাস বগুড়া সদর (বগুড়া-৬) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ইতিমধ্যে স্থানীয় বিএনপি নেতারা তার পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে নির্বাচনী প্রস্তুতির কাজ শুরু করেছেন।

গত ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরেছেন তারেক রহমান। ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশগ্রহণের চূড়ান্ত ধাপটি অতিক্রম করলেন।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts