.
খেলা

১০০তম টেস্টে মুশফিকের রাজত্ব! আয়ারল্যান্ডকে ধুয়ে দিয়ে সিরিজ জয় বাংলাদেশের।

Email :40

১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৫শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি রাত ২:৩৪ বৃহস্পতিবার শীতকাল

পঞ্চম দিনের সকালে মনে হচ্ছিল জয় কেবল সময়ের ব্যাপার। কিন্তু মিরপুরের বাইশ গজে আয়ারল্যান্ডের ব্যাটাররা দেখালেন অভাবনীয় এক প্রতিরোধ। তবে শেষ বিকেলে হাসান মুরাদ ও তাইজুল ইসলামের স্পিন ঘূর্ণিতে ম্লান হয়ে গেল সফরকারীদের সব লড়াই। ঐতিহাসিক শততম টেস্ট খেলতে নামা মুশফিকুর রহিমের মাইলফলকের ম্যাচটি বাংলাদেশ রাঙাল ২-০ ব্যবধানের সিরিজ জয়ে।

২৩ নভেম্বর, ২০২৫—রোববার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে আয়ারল্যান্ডকে ২১৭ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এই জয়ের ফলে ২ ম্যাচের টেস্ট সিরিজে আইরিশদের ‘হোয়াইটওয়াশ’ করল নাজমুল হোসেন শান্তর দল।

জয়ের জন্য আয়ারল্যান্ডের সামনে লক্ষ্য ছিল পাহাড়সম। কিন্তু পঞ্চম দিনে কার্টিস ক্যাম্পফার ও গ্যাভিন হয়ের দৃঢ়তায় দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকে বাংলাদেশের জয়। ক্যাম্পফার একাই খেলেন ২৫৯ বল, অপরাজিত থাকেন ৭১ রানে। তবে দিনের শেষ সেশনে হাসান মুরাদের ভেল্কিতে ধসে পড়ে আইরিশদের লোয়ার অর্ডার। আয়ারল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংস গুটিয়ে যায় ২৯১ রানে।

হাসান মুরাদ নিয়েছে ২ উইকেট 📷 Image Source: deshrupantor

ম্যাচের শেষটা ছিল নাটকীয়। হাসান মুরাদ পরপর দুই বলে গ্যাভিন হয় এবং ম্যাথু হামফ্রেসকে ফিরিয়ে দিয়ে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৪টি করে উইকেট শিকার করেন হাসান মুরাদ ও তাইজুল ইসলাম।

নিজের শততম টেস্ট ম্যাচটি স্মরণীয় করে রাখলেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম। প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি এবং দ্বিতীয় ইনিংসেও কার্যকর ব্যাটিংয়ের সুবাদে তিনি জিতে নেন ‘প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’-এর পুরস্কার। ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত মুশফিক বলেন, “১০০টি টেস্ট খেলতে পারা ভাগ্যের ব্যাপার। তরুণদের গাইড করা এখন আমার দায়িত্ব। আল্লাহকে অশেষ ধন্যবাদ।”

অন্যদিকে, পুরো সিরিজজুড়ে বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য তাইজুল ইসলাম নির্বাচিত হয়েছেন ‘প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ’।

আয়ারল্যান্ডের অধিনায়ক অ্যান্ড্রু বালবির্নি হারের পরেও দলের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা শেষ পর্যন্ত লড়েছি, বিশেষ করে কার্টিসের ব্যাটিং ছিল অনবদ্য। তবে বাংলাদেশের টপ অর্ডার দুই টেস্টেই আমাদের চেয়ে এগিয়ে ছিল।”

বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত দলের জয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের পরিকল্পনা ছিল টপ অর্ডারের ভালো ব্যাটিং, যা আমরা করতে পেরেছি। তাইজুল ও মুরাদ বল হাতে দারুণ করেছে। ঘরের মাঠে দর্শকদের সমর্থন আমাদের সবসময় অনুপ্রাণিত করে।”

টেস্ট সিরিজ শেষে এখন দুই দল টি-টোয়েন্টি সিরিজের লড়াইয়ে নামবে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ৪৭৬ ও ২৯৭/৪ (ডিক্লেয়ার)
আয়ারল্যান্ড: ২৬৫ ও ২৯১ (কার্টিস ক্যাম্পফার ৭১*, গ্যাভিন হয় ৩৭; হাসান মুরাদ ৪/৫৯, তাইজুল ইসলাম ৪/৯০)
ফল: বাংলাদেশ ২১৭ রানে জয়ী।
সিরিজ: বাংলাদেশ ২-০ ব্যবধানে জয়ী।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts