৩০শে পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ১৪ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৪শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি রাত ৮:৪২ বুধবার শীতকাল
রাজধানীতে চাঞ্চল্যকর ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার তদন্তে বড়সড় অগ্রগতির দাবি করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের চালক আলমগীর শেখের এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) একটি বিশেষ দল।
গ্রেপ্তারকৃত ওই যুবকের নাম হিমন রহমান শিকদার (৩২)। পুলিশ জানিয়েছে, হিমন আদাবর থানা যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত এবং তিনি পলাতক আসামি আলমগীরের নির্দেশে রাজধানীতে বড় ধরনের নাশকতার ছক আঁকছিলেন।
যেভাবে গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধার
পুলিশ সূত্র জানায়, গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরের দিকে ডিএমপির ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড অ্যানালাইসিস ডিভিশন (আইএডি) আদাবর এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে ঝটিকা অভিযান চালায়। সেখান থেকে প্রথমে হিমন রহমানকে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে তার দেওয়া স্বীকারোক্তি ও তথ্যের সূত্র ধরে আদাবরের বায়তুল আমান হাউজিং সোসাইটির একটি বাড়িতে অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ওই বাসা থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও তিন রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়। তবে শুধু আগ্নেয়াস্ত্রই নয়, সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ আতশবাজি, পটকা, গানপাউডার (বারুদ) এবং ককটেল তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ যা বলছে
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন ডিএমপির মোহাম্মদপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার জুয়েল রানা। তিনি বলেন, “শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী ও এক্সিকিউশন টিমের সদস্য আলমগীর শেখ। হত্যাকাণ্ডের সময় মূল শ্যুটার ফয়সাল করিম মাসুদকে মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়েছিলেন এই আলমগীর। গ্রেপ্তারকৃত হিমন এই আলমগীরের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী। ধারণা করা হচ্ছে, পলাতক আলমগীরের নির্দেশনায় পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে হিমন তার সহযোগীদের নিয়ে নাশকতার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।”
হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট ও পলাতক আসামিরা
শরিফ ওসমান হাদি আসন্ন নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে তিনি হামলার শিকার হন। প্রত্যক্ষদর্শী ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, হাদি ব্যাটারিচালিত রিকশায় থাকাকালে মোটরসাইকেলে আসা দুই দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।
মাথায় গুলিবিদ্ধ হাদিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া দুই ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। মোটরসাইকেলের পেছনে বসে গুলি চালিয়েছিলেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল করিম মাসুদ, আর বাইকটি চালাচ্ছিলেন যুবলীগ নেতা আলমগীর শেখ।
সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে অবস্থান?
গোয়েন্দা সূত্রের খবর অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের মিশন শেষ করেই ফয়সাল ও আলমগীর ঢাকা ত্যাগ করেন। তাদের দেশত্যাগে সহায়তা করার অভিযোগ উঠেছে ঢাকা উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং মিরপুরের এক সাবেক কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীর বিরুদ্ধে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ধারণা, বাপ্পীর ব্যবস্থাপনায় সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বর্তমানে ভারতে আত্মগোপনে আছেন এই দুই মূল আসামি।
হিমনের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে পলাতক আসামিদের বর্তমান অবস্থান এবং হত্যা পরিকল্পনার আরও গভীর তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
Analysis | Habibur Rahman
