.
আন্তর্জাতিক

স্বপ্নের ফানুসে চড়ে ইতিহাস আর্সেনালের: ইউরোপ সেরা আরতেতার দ্বিশততম জয়ের রাত

Email :14

১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি সকাল ৮:২৭ সোমবার বসন্তকাল

উত্তর লন্ডনের আকাশ এখন শুধুই আর্সেনালের দখলে। গানার্স ভক্তদের এখন ঘোরের মধ্যে থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে এই ঘোর স্বপ্নের নয়, বরং রূঢ় বাস্তবের চেয়েও সুন্দর এক বর্তমানের। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ থেকে শুরু করে ইউরোপীয় মঞ্চ—সবখানেই মিকেল আরতেতার শিষ্যরা যা করে দেখাচ্ছে, তাতে নিজেদের গায়ে চিমটি কেটে বিশ্বাস পরীক্ষা করা ছাড়া সমর্থকদের আর কী বা করার আছে!

চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন সংস্করণে অবিশ্বাস্য এক অধ্যায় রচনা করল আর্সেনাল। লিগ পর্বের শেষ রাউন্ডে কাজাখস্তানের ক্লাব কাইরাতকে ৩-২ গোলে হারিয়ে ‘পারফেক্ট’ রেকর্ড গড়েছে তারা। এই জয়ে লিগ পর্বের আট ম্যাচের সবকটিতেই জয়ের দেখা পেল গানার্সরা।

কাইরাত ডিফেন্ডারকে টপকে আর্সেনালের ভিক্টর ইয়োকেরেসের উড়ন্ত এ ছবিটি প্রতীকী। চ্যাম্পিয়নস লিগে আর্সেনালও এমন উড়ছেএএফপি

ইউরোপে আর্সেনালের রাজত্ব
৩৬ দলের নতুন ফরম্যাটের চ্যাম্পিয়নস লিগের এটি দ্বিতীয় বছর। আর এই দ্বিতীয় বছরেই ইতিহাস গড়ল আর্সেনাল। প্রথম দল হিসেবে লিগ পর্বের ৮ ম্যাচের সবকটি জিতে নকআউট পর্বে পা রাখল তারা। পেপ গার্দিওলার ম্যানচেস্টার সিটির পর দ্বিতীয় ইংলিশ ক্লাব হিসেবে টানা ৮ ম্যাচ জয়ের কীর্তি এখন আরতেতার দলের। এর আগে সিটিজেনরা ২০২৩-২৪ মৌসুমে টানা ১০ ম্যাচ জয়ের রেকর্ড গড়েছিল।

শুধু জয়েই সীমাবদ্ধ নেই আর্সেনাল, তাদের দাপট পরিসংখ্যানেও স্পষ্ট। লিগ পর্বে তারা প্রতিপক্ষের জালে জড়িয়েছে ২৩টি গোল, যা অন্য যেকোনো দলের চেয়ে বেশি। বিপরীতে হজম করেছে মাত্র ৪টি গোল—এটিও আসরের সর্বনিম্ন।

আরতেতার দ্বিশততম জয় ও ব্যক্তিগত মাইলফলক
কাইরাতকে হারানোর রাতটি আর্সেনাল বস মিকেল আরতেতার জন্য ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। আর্সেনালের ডাগআউটে এটি ছিল তাঁর ৩২৬তম ম্যাচ, আর এই ম্যাচ দিয়েই তিনি কোচ হিসেবে নিজের ২০০তম জয়ের মাইলফলক স্পর্শ করলেন।

ম্যাচ শেষে তৃপ্ত আরতেতার কণ্ঠে ঝরে পড়ল গর্ব, “২০০ সংখ্যাটা নিঃসন্দেহে অনেক বড়। যেভাবে আমরা এই পর্ব শেষ করলাম, তা সত্যিই দুর্দান্ত। এখন আমাদের পূর্ণ মনোযোগ পরের ধাপে।”

হাভার্টজের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে লিগে হারের ক্ষত শুকাতে না শুকাতেই কাইরাতের বিপক্ষে একাদশে ১১টি পরিবর্তন এনেছিলেন আরতেতা। তবে সব ছাপিয়ে স্পটলাইটে ছিলেন কাই হাভার্টজ। ইনজুরির করাল গ্রাসে দীর্ঘ ৩৫৭ দিন—প্রায় এক বছর মাঠের বাইরে ছিলেন এই জার্মান তারকা। ফিরেই তিনি বুঝিয়ে দিলেন, আর্সেনালের মাঝমাঠে তাঁর অভাব কতটা তীব্র ছিল।

প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে নিজে গোল করেছেন, সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও দুটি। হাভার্টজের এমন পারফরম্যান্সে উচ্ছ্বসিত আরতেতা বলেন, “এই পারফরম্যান্স তাকে এবং পুরো দলকে নতুন শক্তি জোগাবে। কাই আমাদের জন্য কতটা অপরিহার্য, তা দল জানে। মৌসুমের দ্বিতীয় ভাগে সে আমাদের ট্রাম্পকার্ড হয়ে উঠতে পারে।”

সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ, তবুও নির্ভার আর্সেনাল
প্রিমিয়ার লিগে ২৩ ম্যাচ শেষেও শীর্ষস্থান ধরে রাখা আর্সেনাল এখন পাখির চোখ করেছে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোতে। লিগ পর্বে সেরা দুই দলের একটি হয়ে শেষ করায় নকআউট পর্বে বিশেষ সুবিধা পাবে তারা। শেষ ষোলো থেকে প্রতিটি ধাপের ফিরতি লেগ বা ‘সেকেন্ড লেগ’ নিজেদের দুর্গ অর্থাৎ এমিরেটস স্টেডিয়ামে খেলার সুযোগ পাবে গানার্সরা।

প্রথম পর্বে খেলোয়াড়দের নিবেদন নিয়ে গর্বিত আরতেতা বলেন, “টানা ৮ ম্যাচ জেতা এই পর্যায়ে খুব কঠিন কাজ। অন্য বড় দলগুলোর কী অবস্থা, তা তো সবাই দেখছে। আমার খেলোয়াড়দের নিয়ে আমি গর্বিত।”

মার্চে শুরু হতে যাওয়া শেষ ষোলোর লড়াইয়ের আগে এই ফর্ম আর্সেনাল সমর্থকদের মনে ট্রেবল জয়ের স্বপ্ন বুনে দিচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts