১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি বিকাল ৫:৪৬ সোমবার বসন্তকাল
দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনে নিজেদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে বিএনপি। তবে কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয় বিএনপির হেভিওয়েট নেতা মামুনুর রশীদ। জোটের রাজনীতির স্বার্থে বিএনপি আসনটি শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশকে ছেড়ে দিলেও, বিদ্রোহী হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন ‘চাকসু মামুন’ নামে পরিচিত এই বিএনপি নেতা। ফলে সিলেট-৫ আসনে জোটের সমীকরণ এখন বড় ধরণের চ্যালেঞ্জের মুখে।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, সিলেট-৫ সহ মোট চারটি আসন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। দলের এই ঘোষণা অনুযায়ী, এই আসনে ধানের শীষের বা জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন জমিয়তের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক।
সিলেটের অন্য ৫টি আসনে বিএনপি আগেই দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছিল, কিন্তু কৌশলগত কারণে সিলেট-৫ আসনটি এতোদিন ফাঁকা রাখা হয়েছিল। গুঞ্জন ছিল, জোটের স্বার্থে এই আসনটি শরিকদের ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। মঙ্গলবারের সংবাদ সম্মেলনে সেই গুঞ্জনই বাস্তবে রূপ নিলো।
তবে কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ সিলেট জেলা বিএনপির প্রথম সহ-সভাপতি ও সাবেক ছাত্রনেতা মামুনুর রশীদ। দলের মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে তিনি এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াইয়ের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) তিনি নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।
এ বিষয়ে নিজের অনড় অবস্থানের কথা জানিয়ে মঙ্গলবার মামুনুর রশীদ বলেন, ‘‘আমি নির্বাচন করবো, এটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। মনোনয়নপত্র কিনেছি এবং তা জমাও দেবো। নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো চিন্তাভাবনা আমার নেই। আমি দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকার মানুষের জন্য কাজ করছি, নির্বাচনের মাঠ প্রস্তুত করেছি। এখন আর পেছনে ফেরার সুযোগ নেই।’’
বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, গত দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে কানাইঘাট-জকিগঞ্জ আসনে বিএনপির নিজস্ব কোনো দলীয় প্রার্থী নেই। বারবার আসনটি শরিকদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৮ সালের নির্বাচনেও এই আসনে জমিয়ত নেতা মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুককে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। সে সময় দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন মনোনয়নপ্রত্যাশী মামুনুর রশীদ।
কিন্তু এবার আর ছাড় দিতে রাজি নন চাকসু মামুন। স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। তাঁরা চাইছেন দীর্ঘ তিন দশক পর এই আসনে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির নিজস্ব কোনো নেতা সংসদে প্রতিনিধিত্ব করুক। তৃণমূলের এই আবেগকে পুঁজি করেই এবার মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুকের বিরুদ্ধে ভোটের মাঠে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন মামুন।
জোটের প্রার্থী হিসেবে মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিএনপি নেতা মামুনুর রশীদের এই মুখোমুখি অবস্থান সিলেট-৫ আসনের নির্বাচনী উত্তাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত কেন্দ্র বিদ্রোহ দমনে সফল হয়, নাকি মামুনুর রশীদ তাঁর সিদ্ধান্তে অটল থেকে নির্বাচনী ফলাফল উল্টে দেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
Analysis | Habibur Rahman


