.
আন্তর্জাতিক

সিডনির বন্ডাই বিচে ইহুদি উৎসবে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা: ১৫ প্রাণহানি, বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড়

Email :71

১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি বিকাল ৪:১০ বুধবার বসন্তকাল

অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বিশ্বখ্যাত বন্ডাই বিচে ইহুদি সম্প্রদায়ের ‘হানুক্কা’ উৎসব চলাকালীন এক ভয়াবহ বন্দুক হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। ইহুদিদের আলোর উৎসবের প্রথম দিনে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডে আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। অস্ট্রেলিয়ান কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাকে ইহুদি সম্প্রদায়ের ওপর ‘সুপরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

Visitors flee Bondi Beach after gunmen opened fire on December 14, 2025, in Sydney, Australia [Screengrab/Courtesy of Mike Ortiz via AFP]

রক্তাক্ত ‘চানুক্কা বাই দ্য সি’
স্থানীয় সময় ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ (রোববার)। বন্ডাই বিচে আয়োজিত হয়েছিল ‘চানুক্কা বাই দ্য সি’ উৎসব। যখন সমবেত জনতা হানুক্কার প্রথম মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক তখনই অতর্কিত গুলিবর্ষণে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা। উৎসবের আনন্দ মুহূর্তেই রূপ নেয় আতঙ্কে।

১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, হামলায় এখন পর্যন্ত ১৫ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে বিশিষ্ট ধর্মীয় নেতা রাব্বি এলি শ্লাঙ্গার এবং অন্তত একজন ইসরায়েলি নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া আহত অবস্থায় ২৭ জন এখনো বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, যাদের মধ্যে ৬ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

হামলাকারী ও তদন্ত
নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ এই ঘটনাকে সরাসরি সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। হামলাকারী হিসেবে সাজিদ আকরাম ও নাভিদ আকরাম নামের দুই ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে। পুলিশের পাল্টা পদক্ষেপে একজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন, এবং অপরজন গুরুতর আহত অবস্থায় বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার ক্রিস মিন্স জানিয়েছেন, এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিল সিডনির ইহুদি সম্প্রদায়কে আঘাত করা এবং আতঙ্ক সৃষ্টি করা।

বিশ্বনেতাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিক্রিয়া
এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ ঘটনাটিকে ‘অকল্পনীয়’ উল্লেখ করে বলেছেন, এটি একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে চালানো জঘন্য হামলা। তিনি ইহুদি সম্প্রদায়ের সুরক্ষায় সব ধরনের সহায়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ একে ‘নিষ্ঠুর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, যারা হানুক্কার আলো জ্বালাতে গিয়েছিল, তাদের ওপর এই অন্ধকার নামিয়ে আনা হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার ঘটনাটিকে ‘গভীরভাবে পীড়াদায়ক’ বলে অভিহিত করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ব্রিটেনের রাজা চার্লসও গভীর শোক ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিন ও ইরান। ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সব ধরনের সহিংসতার বিরোধিতা করে অস্ট্রেলিয়ার জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

এছাড়া ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন, ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টুব, নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গোহর স্টোর এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিসহ বিশ্বনেতারা এই হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন এবং হতাহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি সিডনিজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts