.
আন্তর্জাতিক

সম্পর্ক ছিন্নের ডাক শুভেন্দুর, মোদীর ‘রহস্যজনক’ নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তৃণমূলের

Email :38

১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি বিকাল ৫:৪৬ সোমবার বসন্তকাল

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। একদিকে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বাংলাদেশের সাথে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করা এবং পণ্য রপ্তানি বন্ধের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, অন্যদিকে রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস এই ইস্যুতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দীর্ঘ নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

শুভেন্দুর কঠোর হুঁশিয়ারি ও আল্টিমেটাম
ময়মনসিংহে দীপু দাস নামক এক যুবককে নির্মমভাবে হত্যা ও পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার কলকাতার দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন বন্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে কলকাতার বাংলাদেশ উপদূতাবাসকে সদুত্তর দিতে হবে।

শুভেন্দু হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যতক্ষণ না আমরা দীপু দাসের হত্যাকারীদের বিচার এবং হিন্দুদের নিরাপত্তার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আশ্বাস পাচ্ছি, ততক্ষণ আমাদের আন্দোলন তীব্রতর হবে।” তিনি আরও জানান, উপদূতাবাস যদি আলোচনার সুযোগ না দেয়, তবে বাইরের রাস্তা দখল করে প্রতিবাদ জানানো হবে এবং সেখানে স্বাভাবিক কাজকর্ম চলতে দেওয়া হবে না।

যদিও পররাষ্ট্রনীতি কেন্দ্রীয় সরকারের এখতিয়ারভুক্ত, তবুও শুভেন্দু অধিকারী তার ‘ব্যক্তিগত মতামত’ হিসেবে মন্তব্য করেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের উচিত বাংলাদেশের সঙ্গে সব ধরনের আদান-প্রদান বন্ধ করে দেওয়া। তিনি বলেন, “আমার ব্যক্তিগত মত হলো, সব বন্ধ করে দেওয়া উচিত। এখান থেকে কোনো কিছুই যেন বাংলাদেশে না যায়, সেই ব্যবস্থা করা দরকার।”

হিমন্ত বিশ্বশর্মার সুরে সুর
আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা সম্প্রতি বাংলাদেশের সঙ্গে সমস্ত কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার যে প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তাকেও পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন শুভেন্দু। তার মতে, বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী পাঁচটি ভারতীয় রাজ্য সেখানকার পরিস্থিতি সবচেয়ে ভালো অনুধাবন করতে পারে। তাই হিমন্ত বিশ্বশর্মার বক্তব্যকে যথার্থ বলে মনে করেন পশ্চিমবঙ্গের এই বিরোধী দলনেতা।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, এবিভিপি ও হিন্দু জাগরণ মঞ্চের মতো সংগঠনগুলো কলকাতায় বাংলাদেশ উপদূতাবাস অভিযানের ডাক দিয়েছিল। পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকে দিলে দুপক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটে।

তৃণমূলের পাল্টা তোপ ও মোদীর সমালোচনা
শুভেন্দু যখন সুর চড়াচ্ছেন, তখন পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকে আক্রমণ শানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের দিকে। তৃণমূলের অভিযোগ, সোশ্যাল মিডিয়ায় সর্বদা সক্রিয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বাংলাদেশের চলমান অস্থিরতা নিয়ে রহস্যজনকভাবে নিশ্চুপ।

তৃণমূল কংগ্রেস তাদের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে প্রশ্ন তুলেছে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণেই কি প্রধানমন্ত্রী মোদী দীপু দাস হত্যা বা সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলছেন না? দলটির দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কার্যত পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

মমতার ভূমিকা ও বিজেপির ‘দ্বিচারিতা’
তৃণমূল দাবি করেছে, কেন্দ্র যখন নিষ্ক্রিয়, তখন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন রাষ্ট্রনেতার মতো আচরণ করেছেন। তিনি সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার পাশাপাশি বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফেরাতে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাব দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

বিজেপির সমালোচনা করে তৃণমূল আরও জানায়, কয়েক মাস আগেই এই শুভেন্দু অধিকারী মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রশংসা করে বলেছিলেন, তারা পশ্চিমবঙ্গের সরকারের চেয়ে ভালো কাজ করছে। আজ সেই নেতাই আবার বাংলার পরিবেশ অশান্ত করতে চাইছেন। তৃণমূলের মতে, দেশের নির্বাচিত সরকারকে হেয় করে ভিন দেশের শাসকের প্রশংসা করা এবং পরে আবার সুর পাল্টানো দেশবিরোধী আচরণের শামিল।

সব মিলিয়ে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এখন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির মাঠ গরম করার অন্যতম হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে, যেখানে বিজেপি এবং তৃণমূল পরস্পরকে দোষারোপের মাধ্যমে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছে। Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts