১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি সকাল ১১:৫৭ সোমবার বসন্তকাল
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্মরণে আগামীকাল শুক্রবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নাগরিক শোকসভা। ‘নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকলেও মঞ্চে কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া হবে না। ভাবগাম্ভীর্য বজায় রাখতে এই শোকসভায় হাততালি ও স্লোগান নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (আজ) দুপুরে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান শোকসভা আয়োজক কমিটির অন্যতম সদস্য, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ।
রাজনীতিমুক্ত মঞ্চ ও পেশাজীবীদের অংশগ্রহণ
সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ স্পষ্ট করেন, গত ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর জাতি যে শোক অনুভব করছে, তা সম্মিলিতভাবে প্রকাশের জন্যই এই আয়োজন। তিনি বলেন, “দার্শনিক দৃষ্টিতে মানুষের সব কাজই রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তবে আমাদের এই আয়োজনটি দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে। এটি দেশনেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের একটি মানবিক ও জাতীয় উদ্যোগ।”
আয়োজকরা জানান, শোকসভার মঞ্চে কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা বক্তব্য দেবেন না। মঞ্চে কথা বলবেন কেবল শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, গবেষক, ধর্মীয় প্রতিনিধি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের শীর্ষ ব্যক্তিত্বরা। তবে রাজনৈতিক দলগুলোকে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং তারা দর্শকসারিতে আসন গ্রহণ করবেন।
তারেক রহমান ও পরিবারের উপস্থিতি
শোকসভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বক্তব্য দেবেন কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আয়োজকরা জানান, মঞ্চটি কেবল পেশাজীবীদের জন্য নির্ধারিত। তাই রাজনৈতিক দলের কেউ সেখানে বক্তব্য রাখবেন না। তবে খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যদের বিশেষ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং তাঁরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, তারেক রহমান পরিবারের সদস্য হিসেবে এই আয়োজনে সম্পৃক্ত থাকবেন।
কঠোর নিয়মাবলি ও গাম্ভীর্য রক্ষা
শোকসভার পরিবেশকে পবিত্র ও মর্যাদাপূর্ণ রাখতে বেশ কিছু কঠোর নিয়ম আরোপ করেছে নাগরিক সমাজ। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়:
১. অনুষ্ঠানে কোনো প্রকার হাততালি দেওয়া যাবে না।
২. দাঁড়িয়ে থাকা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা যাবে না।
৩. সেলফি তোলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
৪. আমন্ত্রণপত্র ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না। তবে আমন্ত্রিত অতিথি কার্ড আনতে ভুলে গেলে তালিকায় নাম থাকা সাপেক্ষে বিকল্প পাসের ব্যবস্থা থাকবে।
আয়োজকদের ভাষ্যমতে, এটি কোনো রাজনৈতিক শো-ডাউন বা জনসভা নয়, বরং নীরব শ্রদ্ধা জানানোর অনুষ্ঠান।
সময়সূচি ও প্রবেশাধিকার
শুক্রবার বেলা আড়াইটায় মূল অনুষ্ঠান শুরু হবে। তবে আমন্ত্রিত অতিথিদের সুবিধার্থে দুপুর সাড়ে ১২টা থেকেই প্রবেশপথ খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুন আহমেদ। অনুষ্ঠানে বিদেশি কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থাকবেন।
গণমাধ্যম ও সম্প্রচার ব্যবস্থা
অনুষ্ঠানটি কভার করার জন্য বিপুল সংখ্যক গণমাধ্যমকর্মীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সাংবাদিকদের জন্য ওয়াই-ফাই ও আধুনিক প্রযুক্তিগত সুবিধা রাখা হয়েছে। মূল অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচার করবে এবং অন্যান্য বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সেখান থেকে ফিড নিয়ে প্রচার করতে পারবে। মাল্টিমিডিয়া ও অনলাইন পোর্টালগুলোর জন্যও রাখা হয়েছে আলাদা বুথ।
অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ আশা প্রকাশ করে বলেন, “শৃঙ্খলা ও শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে এই শোকসভা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অনন্য ও গাম্ভীর্যপূর্ণ অনুষ্ঠান হিসেবে স্থান করে নেবে।”
Analysis | Habibur Rahman