.
অন্যান্য

শীতের মৌসুমে এই দুটি জিনিস ছুঁলেই বিপদ! সুস্থ থাকতে হাত ধোয়া জরুরি

Email :45

১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি বিকাল ৫:৪৯ সোমবার বসন্তকাল

শীতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃতিতে যেমন পরিবর্তন আসে, তেমনি বাড়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি। শুষ্ক আবহাওয়া আর ধুলাবালি রোগজীবাণুর বিস্তারের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে। আমরা সাধারণত খাবার আগে বা শৌচাগার ব্যবহারের পর হাত ধোয়ার ব্যাপারে সচেতন থাকি। কিন্তু দৈনন্দিন জীবনে এমন কিছু সাধারণ জিনিসের সংস্পর্শে আমরা আসি, যা নিজের অজান্তেই শরীরে মারাত্মক সব জীবাণু প্রবেশের সুযোগ করে দেয়।

বিভিন্ন স্থাপনার সিঁড়ি, গণপরিবহনের এসকেলেটরসহ বিভিন্ন বাহনের হাতল ধরতে হয় নিয়মিত; এসব হাতলের মধ্যেও লুকিয়ে থাকে হাজারো জীবাণু
ছবি: পেক্সেলস

বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালে বেশ কিছু নিত্যব্যবহার্য বস্তু ‘জীবাণুর বোমা’ হিসেবে কাজ করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে এসব বস্তু স্পর্শ করার পরপরই হাত পরিষ্কার করা অত্যন্ত জরুরি। চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই দুটি প্রধান জিনিসের কথা।

১. দরজার হাতল বা নব: জীবাণুর আস্তানা
অফিস, বাসা কিংবা শপিং মল—প্রবেশের জন্য দরজার হাতল বা নব স্পর্শ করতেই হয়। অথচ আপনি হয়তো জানেন না, আপাতদৃষ্টিতে পরিষ্কার মনে হওয়া এই হাতলে কিলবিল করছে হাজারো ব্যাকটেরিয়া।

বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে পিলে চমকানো তথ্য। দরজার নবে প্রতি বর্গসেন্টিমিটারে হাজার হাজার ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বসবাস করতে পারে। এর মধ্যে ‘ই-কোলাই’ কিংবা ‘স্ট্যাফাইলোকক্কাস’-এর মতো প্রাণঘাতী জীবাণুও থাকে। যেহেতু জনাকীর্ণ স্থানে অসংখ্য মানুষ একই হাতল ব্যবহার করেন, তাই এখান থেকে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি। চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো, শীতকালে বাইরে থেকে এসে বা কোনো দরজার নব ধরার পর যত দ্রুত সম্ভব সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলতে হবে অথবা স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে।

দরজার নবে প্রতি বর্গসেন্টিমিটারে হাজার হাজার ব্যাকটেরিয়া বসবাস করে
ছবি: পেক্সেলস

২. টাকা ও পয়সা: হাজার হাতের স্পর্শ
টাকা ছাড়া জীবন অচল, কিন্তু এই টাকাই হতে পারে আপনার অসুস্থতার কারণ। কাগজের নোট কিংবা ধাতব মুদ্রা—উভয়ই অসংখ্য মানুষের হাত ঘুরে আপনার কাছে পৌঁছায়। টাকার এই দীর্ঘ যাত্রাপথে এটি কোথায় রাখা হয়েছিল বা কে ধরেছিল, তা জানা অসম্ভব।

কাগজের নোট হোক কিংবা ধাতব মুদ্রা—হাজারো হাত ঘুরে সেই টাকা আসে আপনার হাতে
ছবি: মঈনুল ইসলাম

যদিও বর্তমানে ডিজিটাল লেনদেনের প্রচলন বেড়েছে, তবুও খুচরা বাজারে বা প্রয়োজনে কাগুজে নোটের ব্যবহার এখনো অপরিহার্য। হাজারো হাতবদল হওয়া এসব টাকার গায়ে লেগে থাকে অসংখ্য অচেনা ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া। বিশেষ করে শীতের সময় এসব জীবাণু আরও বেশি সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। তাই টাকা বা কয়েন নাড়াচাড়া করার পর সেই হাত দিয়ে চোখ বা মুখ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন এবং কাজ শেষে অবশ্যই হাত জীবাণুমুক্ত করে নিন।

অন্য কারও বাসায় গিয়ে পোষা প্রাণী আদর করার পর হাত পরিষ্কার করা বাঞ্ছনীয়
ছবি: পেক্সেলস

সতর্কতা
শীতকালীন রোগবালাই থেকে নিজেকে এবং পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে কেবল ভারী পোশাক পরাই যথেষ্ট নয়। দৈনন্দিন এই ছোটখাটো অভ্যাসের পরিবর্তন এবং হাত ধোয়ার সঠিক চর্চাই আপনাকে রাখতে পারে সুস্থ ও নিরাপদ।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts