১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৫শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি দুপুর ১:৩৫ বৃহস্পতিবার শীতকাল
শীতের আগমনে প্রকৃতিতে পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগার সঙ্গে সঙ্গেই বয়স্কদের শরীরে দেখা দেয় পুরোনো ব্যথার উপদ্রব। বিশেষ করে যাদের বয়স ৬৫ বা তার বেশি, তাদের অনেকের জন্যই শীতকাল হয়ে ওঠে বিভীষিকাময়। তাপমাত্রার পারদ কমার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে হাড়, গিরা ও মাংসপেশির ব্যথা। অনেক সময় তীব্র ঠান্ডায় বয়োজ্যেষ্ঠরা বিছানা ছেড়ে উঠতেও পারেন না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতকালে বাতজ্বর বা আর্থ্রাইটিসের প্রকোপ বাড়ে। তবে আগে থেকেই কিছু প্রস্তুতি নিলে এই ভোগান্তি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
কেন শীতে ব্যথা বাড়ে?
ল্যাবএইড আইকনিকের বাতরোগ ও হাড় বিশেষজ্ঞ ডা. মো. আহিদ ইকবালের মতে, এই বয়সে ব্যথার মূল কারণ সাধারণত আর্থ্রাইটিস, ভিটামিন-ডি এর ঘাটতি অথবা হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়া (অস্টিওপোরোসিস)। শীতকালে রাত দীর্ঘ হওয়ায় মানুষ দীর্ঘক্ষণ শুয়ে বা বসে থাকেন। দীর্ঘ সময় নড়াচড়া না করার ফলে জয়েন্ট বা গিরাগুলো শক্ত হয়ে যায়, যাকে ‘মর্নিং স্টিফনেস’ বলা হয়। এ কারণেই শীতের সকাল বা রাতে ব্যথা তীব্র আকার ধারণ করে।
আগাম প্রস্তুতি ও করণীয়
শীতের তীব্রতা বাড়ার আগেই প্রবীণ সদস্যদের জন্য কিছু ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এর মধ্যে রয়েছে:
১. সঠিক রোগ নির্ণয়: প্রথমেই ব্যথার উৎস খুঁজে বের করতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শে শরীরে ভিটামিন-ডি এর মাত্রা এবং হাড়ের ঘনত্ব পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া জরুরি। ঘাটতি থাকলে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন-ডি সাপ্লিমেন্ট এবং বাতের ওষুধ শুরু করতে হবে।
২. তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও পোশাক: বয়স্কদের শরীর সব সময় উষ্ণ রাখতে হবে। ঘর যাতে অতিরিক্ত ঠান্ডা না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। প্রয়োজনে গরম কাপড় ও রুম হিটার ব্যবহার করা যেতে পারে।
৩. বিছানা ও সেঁক: ঘুমানোর বিছানা খুব বেশি শক্ত বা একদম নরম হওয়া যাবে না। ব্যথার স্থানে কুসুম গরম পানি বা হিটিং প্যাড দিয়ে নিয়মিত সেঁক দিলে আরাম পাওয়া যায়।
৪. সচল থাকা ও রোদ পোহানো: ব্যথা কমাতে হালকা ব্যায়াম বা হাঁটাহাঁটির কোনো বিকল্প নেই। প্রতিদিন অন্তত ১৫-২০ মিনিট গায়ে রোদ লাগাতে হবে। এতে প্রাকৃতিকভাবে ভিটামিন-ডি তৈরি হয় এবং হাড় মজবুত থাকে।
৫. খাদ্যাভ্যাস: শীতে সুষম ও পুষ্টিকর খাবারের প্রতি জোর দিতে হবে।
চিকিৎসকরা বলছেন, শীতে জড়তা কাটিয়ে একটু সচল থাকলে এবং সঠিক চিকিৎসা নিলে প্রবীণরাও সুস্থ ও ব্যথামুক্ত জীবন যাপন করতে পারবেন।
Analysis | Habibur Rahman



