৭ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২১শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১লা শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি বিকাল ৩:৫২ শনিবার বসন্তকাল
হিমালয়ের দেশ নেপালে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের মিশন শুরু করল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। ব্যাটার শারমিন আক্তারের ঝোড়ো হাফসেঞ্চুরি এবং বোলার নাহিদা আক্তারের বিধ্বংসী স্পেলের সুবাদে যুক্তরাষ্ট্রকে ২১ রানে হারিয়েছে টাইগ্রেসরা। আজ কাঠমান্ডুর আপার মুলপানি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস হেরেও ব্যাট হাতে প্রতিপক্ষকে ১৫৯ রানের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয় নিগার সুলতানার দল। জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ৯ উইকেট হারিয়ে ১৩৭ রানেই থেমে যায়।
ব্যাট হাতে শারমিনের আধিপত্য
নেপালের এই মাঠে টস ভাগ্য বাংলাদেশের পক্ষে ছিল না। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন বাংলাদেশের ওপেনাররা। ইনিংসের শুরুটা করেন দিলারা আক্তার। মাত্র ৮ বল খেলে ১৭ রানের ছোট কিন্তু কার্যকর এক ক্যামিও খেলে আউট হন তিনি। ৩ ওভার শেষে দলের স্কোর যখন ২৬, তখন ক্রিজে আসেন শারমিন আক্তার।
এরপর মাঠ জুড়ে শুধুই শারমিনের আধিপত্য। যুক্তরাষ্ট্রের বোলারদের ওপর রীতিমতো ছড়ি ঘুরিয়েছেন এই টপ অর্ডার ব্যাটার। মাত্র ৩৯ বল মোকাবিলা করে তিনি উপহার দেন ৬৩ রানের অনবদ্য এক ইনিংস, যা সাজানো ছিল ৮টি চার ও ১টি ছক্কায়। যদিও অধিনায়ক নিগার সুলতানা এদিন জ্বলে উঠতে পারেননি, মাত্র ২ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি।
তবে মিডল অর্ডারে সোবহানা মোস্তারি ও স্বর্ণা আক্তার দলের হাল ধরেন। সোবহানা ২৯ বলে ৩২ রান করে ইনিংসের ভিত্তি মজবুত করেন এবং শেষদিকে স্বর্ণা আক্তারের ১২ বলে ১৬ রানের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৫৯ রানের লড়াকু পুঁজি পায় বাংলাদেশ।
নাহিদার ঘূর্ণিতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাটিং ধস
১৬০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে যুক্তরাষ্ট্রের শুরুটা অবশ্য মন্দ ছিল না। দুই ওপেনার দিশা ধিংরা ও চেতনা পগ্যাদিয়ালা মিলে উদ্বোধনী জুটিতে ৩৫ বলে ৪২ রান যোগ করেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রতিরোধ বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেননি রাবেয়া খান। ২৩ রান করা দিশাকে ফিরিয়ে দিয়ে তিনি বাংলাদেশকে প্রথম ব্রেক থ্রু এনে দেন।
এরপরই যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামে। ১ উইকেটে ৫৭ রান থেকে দেখতে দেখতে স্কোরবোর্ড পরিণত হয় ৬ উইকেটে ৭৯ রানে। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় যুক্তরাষ্ট্র। স্পিনার নাহিদা আক্তার বল হাতে ছিলেন দুর্দান্ত। বিশেষ করে ১৮তম ওভারে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। একাই শিকার করেন ৪টি উইকেট, যার মধ্যে ৩টিই এসেছে ওই একটি ওভারে।
শেষদিকে যুক্তরাষ্ট্রের রিতু সিং ১৩ বলে ৩৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে হারের ব্যবধান কমালেও দলের পরাজয় এড়াতে পারেননি। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৩৭ রানে থামে তাদের ইনিংস।
সামনে পাপুয়া নিউগিনি ও ইংল্যান্ডের স্বপ্ন
এই জয়ের ফলে ‘এ’ গ্রুপে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। এই গ্রুপে বাংলাদেশের অন্য প্রতিপক্ষরা হলো আয়ারল্যান্ড, পাপুয়া নিউগিনি ও নামিবিয়া। টুর্নামেন্টের ফরম্যাট অনুযায়ী, দুই গ্রুপের ১০টি দল থেকে শীর্ষ তিনটি করে মোট ছয়টি দল সুপার সিক্স পর্বে খেলার সুযোগ পাবে। সেখান থেকে শীর্ষ চারটি দল ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বের টিকিট পাবে।
বিজয়ী সূচনা করা বাংলাদেশ দলের পরবর্তী ম্যাচ আগামী ২০ জানুয়ারি, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ পাপুয়া নিউগিনি। শুভ সূচনা ধরে রেখে মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়াই এখন নিগার সুলতানার দলের প্রধান লক্ষ্য।
