.
অন্যান্য

শহরের ‘অস্থায়ী’ ব্যবসায় শুমারির নজর কম, গণনার বাইরে ৩ লাখ ৬৫ হাজার প্রতিষ্ঠান

Email :60

১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি বিকাল ৩:৫০ সোমবার বসন্তকাল

সদ্য সমাপ্ত ২০২৪ সালের অর্থনৈতিক শুমারিতে সারা দেশে প্রায় ৩ লাখ ৬৫ হাজার অর্থনৈতিক ইউনিট বা প্রতিষ্ঠান গণনার বাইরে থেকে গেছে। মূলত সিটি করপোরেশন এলাকার ভাসমান ও অস্থায়ী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোই শুমারিকর্মীদের চোখের আড়ালে পড়েছে বেশি। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) এক যাচাই-বাছাই প্রতিবেদনে (পিইসি) উঠে এসেছে এমন চিত্র।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিআইডিএস ভবনে আয়োজিত পোস্ট এনুমারেশন চেক (পিইসি) প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরাছবি: প্রথম আলো

মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিআইডিএস কার্যালয়ে এই ‘পোস্ট এনুমারেশন চেক (পিইসি)’ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

শহরেই গরমিল বেশি
প্রতিবেদনে দেখা যায়, জাতীয় পর্যায়ে গণনা থেকে বাদ পড়ার হার ২ দশমিক ৯৫ শতাংশ। তবে গ্রাম ও মফস্বল শহরের তুলনায় সিটি করপোরেশন এলাকাগুলোতে এই হার অনেক বেশি। গ্রামে যেখানে মাত্র ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ ইউনিট বাদ পড়েছে, সেখানে সিটি করপোরেশন এলাকায় বাদ পড়ার হার ৫ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

বিশেষ করে শহরের অপ্রাতিষ্ঠানিক ও সেবা খাতের অস্থায়ী দোকান বা ব্যবসাগুলো গুনতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন কর্মীরা। এসব এলাকায় অস্থায়ী ইউনিটের ক্ষেত্রে বাদ পড়ার হার সর্বোচ্চ ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ।

এ বিষয়ে বিআইডিএসের গবেষণা পরিচালক ড. মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, ‘শহরাঞ্চলে স্থায়ী প্রতিষ্ঠানের চেয়ে ভাসমান বা অস্থায়ী ব্যবসার স্থান পরিবর্তনের প্রবণতা বেশি। একটি স্থায়ী কাঠামো সরাতে সময় লাগে, কিন্তু ফুটপাত বা অস্থায়ী দোকান মুহূর্তেই উধাও হয়ে যেতে পারে। একারণেই সিটি করপোরেশন এলাকায় গরমিলটা বেশি চোখে পড়ছে।’

ত্রুটির মাত্রা ও তথ্যের অসংগতি
মূল শুমারি অনুযায়ী দেশে মোট অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা ছিল ১ কোটি ১৮ লাখ ৭৭ হাজার ৩৬৪টি। পিইসি জরিপের জন্য দেশের ৩৫২টি নমুনা এলাকা বেছে নেওয়া হয়। দেখা গেছে, ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৪৭২টি ইউনিট মূল তালিকায় স্থান পায়নি। তবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, শুমারিতে ৫ শতাংশ পর্যন্ত ত্রুটি গ্রহণযোগ্য বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। সে হিসেবে ২ দশমিক ৯৫ শতাংশ বিচ্যুতি গ্রহণযোগ্য সীমার মধ্যেই রয়েছে।

শুধু প্রতিষ্ঠান বাদ পড়াই নয়, তথ্যের ধরনেও কিছু অমিল পাওয়া গেছে। জরিপে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানের ধরন নির্ণয়ে প্রায় ১৪ শতাংশ, কার্যক্রমের বিবরণে ৮ শতাংশ এবং মালিকানা সংক্রান্ত তথ্যে ৬ শতাংশ ক্ষেত্রে মূল শুমারির সঙ্গে পিইসি তথ্যের পার্থক্য রয়েছে।

মাঠপর্যায়ের চ্যালেঞ্জ
অনুষ্ঠানে বক্তারা শুমারিকর্মীদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। পরিকল্পনা বিভাগের সচিব ও অর্থনৈতিক শুমারির সাবেক প্রকল্প পরিচালক শাকিল আকতার বলেন, ‘তথ্য সংগ্রহকারীদের মাত্র তিন থেকে পাঁচ দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যা জটিল ম্যানুয়াল আয়ত্ত করার জন্য যথেষ্ট নয়। এছাড়া বড় গার্মেন্টস বা শিল্পকারখানায় নিরাপত্তার কারণে গণনাকারীদের ঢুকতে দেওয়া হয় না। অনেক সময় মালিকপক্ষও তথ্য দিতে অনীহা প্রকাশ করেন, যা সঠিক তথ্য সংগ্রহের পথে বড় বাধা।’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব আলেয়া আক্তার। সভাপতিত্ব করেন বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিবিএসের মহাপরিচালক মিজানুর রহমান।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts