১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি সন্ধ্যা ৭:২৯ সোমবার বসন্তকাল
অবশেষে দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের অপেক্ষার প্রহর ফুরোতে যাচ্ছে। যুক্তরাজ্যের লন্ডনে টানা ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলের শীর্ষ নেতার এই ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করে রাখতে ব্যাপক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে যাচ্ছে বিএনপি। এ লক্ষ্যে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমতি বা ‘সবুজ সংকেত’ পেয়েছে দলটি।
রোববার (রাতে) বিএনপির মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে এই অনুমতির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, তারেক রহমানের দেশে ফেরার দিনটিকে কেন্দ্র করে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য প্রশাসনের কাছে যে লিখিত আবেদন করা হয়েছিল, তা গৃহীত হয়েছে।
প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক অনুমতিপত্র হস্তান্তর
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাত সাড়ে আটটার দিকে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর স্বাক্ষরিত অনুমতিপত্রটি বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে উদ্দেশ্য করে পাঠানো হয়। প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের একজন প্রতিনিধি ও স্টাফ জাহিদ হোসেন সরাসরি রাজধানীর নয়াপল্টনে অবস্থিত বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসেন। সেখানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা সাত্তার পাটোয়ারী দলের পক্ষে চিঠিটি গ্রহণ করেন।
নেতার আগমনে দলের প্রস্তুতি
তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ছিল তুঙ্গে। এর আগে তিনি নিজেই এক বক্তব্যে ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন। এবার সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের প্রশাসনিক অনুমতি মেলার পর দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বাড়তি উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২৫ ডিসেম্বর বিমানবন্দর থেকে শুরু করে রাজধানীজুড়ে এক বিশাল জনসমাগমের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি।
লন্ডনে দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তনকে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে অভিহিত করছেন দলীয় নেতারা। আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে সংবর্ধনা আয়োজনের অনুমতি পাওয়াকে তারা ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন।
উল্লেখ্য, বিগত রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং আইনি নানা চড়াই-উতরাই পার করে তারেক রহমানের এই ফিরে আসা বিএনপির রাজনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

