.
অন্যান্য

লন্ডনে অবস্থান এবং তারেক রহমানের ভোটের অঙ্ক: ইসির এখতিয়ার ও আইনি বাস্তবতা

Email :153

১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি সন্ধ্যা ৭:২৮ সোমবার বসন্তকাল

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বর্তমানে লন্ডনে অবস্থান করছেন। তিনি কি আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন? কিংবা প্রবাসে থেকেই কি তার পক্ষে প্রার্থী হওয়া সম্ভব? নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বর্তমান তথ্যভাণ্ডার এবং প্রচলিত আইনের চুলচেরা বিশ্লেষণে উঠে এসেছে ভিন্ন এক সমীকরণ। আপাতদৃষ্টিতে তিনি ভোটার তালিকায় না থাকলেও, আইনি কাঠামো ও ইসির বিশেষ ক্ষমতায় তার প্রার্থী হওয়ার পথ একেবারে রুদ্ধ নয়।

ভোটার তালিকায় নাম নেই, তবে সুযোগ আছে
নির্বাচন কমিশনের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, তারেক রহমান বর্তমানে বাংলাদেশের ভোটার তালিকায় নিবন্ধিত নন। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পূর্বশর্ত হলো সংশ্লিষ্ট বা যেকোনো একটি নির্বাচনী এলাকার ভোটার হওয়া। যেহেতু তিনি ভোটার নন, তাই বিদ্যমান অবস্থায় তার প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই।

তবে এই ‘না’-এর ভেতরেও ‘হ্যাঁ’ বলার সুযোগ রয়েছে ইসির হাতে। ‘ভোটার তালিকা আইন ২০০৯’-এর বিশেষ ধারা অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন চাইলে নির্ধারিত সময়সীমার বাইরেও যেকোনো সময় যোগ্য কোনো ব্যক্তিকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষমতা রাখে। ইসির একজন জ্যেষ্ঠ সচিবের বক্তব্যেও এর প্রতিফলন ঘটেছে। তিনি স্পষ্ট করেছেন, কমিশন চাইলে তারেক রহমানকে বিশেষ বিবেচনায় ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত করার সুযোগ দিতে পারে। এই বিধানটি কেবল তারেক রহমানের জন্য নয়, বরং যোগ্য যেকোনো নাগরিকের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

লন্ডনে বসে কি ভোটার হওয়া সম্ভব?
জনমনে প্রশ্ন রয়েছে, বিদেশে অবস্থান করে কেউ দেশের ভোটার হতে পারেন কি না। ২০০৯ সালের আইনি সংস্কার এবং প্রবাসী ভোটার নীতিমালার আলোকে এর উত্তর—হ্যাঁ, সম্ভব। একজন প্রবাসী বাংলাদেশি তার পূর্বের স্থায়ী ঠিকানা বা পৈতৃক সম্পত্তির ঠিকানাকে ভিত্তি করে ‘বাসিন্দা’ হিসেবে ভোটার হতে পারেন।

আইন অনুযায়ী, ভোটার হওয়ার জন্য আবেদনকারীকে বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে, বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হতে হবে এবং আদালত কর্তৃক মানসিকভাবে অক্ষম ঘোষিত হওয়া যাবে না। এই শর্তগুলো পূরণ সাপেক্ষে তারেক রহমান লন্ডনে অবস্থান করলেও পৈতৃক ঠিকানায় ভোটার হওয়ার যোগ্যতা রাখেন।

প্রার্থিতা ও পোস্টাল ব্যালট প্রসঙ্গ
ভোটার হওয়ার পর আসে প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি। আইন অনুযায়ী, একজন নিবন্ধিত ভোটার বিদেশ থেকেও মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেন। এমনকি প্রবাসে অবস্থানরত ভোটারদের জন্য ‘পোস্টাল ব্যালট’ বা ডাকযোগে ভোট দেওয়ার বিধানও আইনে রয়েছে। অর্থাৎ, তাত্ত্বিকভাবে লন্ডনে বসে ভোট দেওয়া এবং প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বিদ্যমান।

তবে বিষয়টি যতটা সরল মনে হচ্ছে, বাস্তবে ততটা সহজ নাও হতে পারে। প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে কেবল ভোটার হওয়াই শেষ কথা নয়; সংবিধান ও ফৌজদারি আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি দণ্ডপ্রাপ্ত বা অন্য কোনো কারণে অযোগ্য কি না, সেটিও বিবেচ্য। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে থাকা বিদ্যমান মামলা এবং আইনি জটিলতাগুলো এখানে বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করবে।

বিশ্লেষণ
আইনি ও বাস্তবিক অবস্থার সারসংক্ষেপ করলে দেখা যায়, তারেক রহমান এখনই ‘লন্ডনে বসে সব করতে পারবেন’—বিষয়টি এমন নয়। এই প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ হলো তাকে ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হতে হবে, যা ইসির সদিচ্ছা ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। এরপর আসবে প্রার্থিতার আইনি বৈধতার প্রশ্ন। ফলে, তারেক রহমানের নির্বাচনে ফেরাটা এখন যতটা না রাজনৈতিক, তার চেয়ে বেশি আইনি প্রক্রিয়া ও নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর ঝুলে আছে।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts