১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি রাত ১২:৫০ সোমবার বসন্তকাল
লন্ডনের ঝকঝকে ফুটপাথগুলো ক্রমেই লালচে দাগে বিবর্ণ হয়ে উঠছে। তবে এই দাগ রক্তের নয়, বরং দক্ষিণ এশীয় ঐতিহ্যবাহী ‘পান’-এর। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান থেকে আগত প্রবাসীদের একটি অংশের যত্রতত্র পানের পিক ফেলার বদভ্যাসে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে লন্ডনের স্থানীয় কাউন্সিলগুলো। রাস্তার সৌন্দর্য ও পরিচ্ছন্নতা ফিরিয়ে আনতে প্রতি বছর তাদের গুণতে হচ্ছে প্রায় ৩০ হাজার পাউন্ড।
দক্ষিণ এশীয় সংস্কৃতির অংশ হিসেবে পান খাওয়ার রেওয়াজ থাকলেও, লন্ডনের রাস্তায় এর অবশিষ্টাংশ বা পিক ফেলার বিষয়টি এখন স্থানীয় প্রশাসনের কাছে মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে টাওয়ার হ্যামলেটস, হ্যারো, ব্রেন্ট এবং ওয়েম্বলির মতো এলাকাগুলোতে, যেখানে দক্ষিণ এশীয়দের বসবাস বেশি, সেখানে এই সমস্যাটি প্রকট আকার ধারণ করেছে।
হ্যারো কাউন্সিল এই পরিস্থিতিকে ‘বীভৎস, অস্বাস্থ্যকর এবং পরিষ্কারের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল’ বলে আখ্যায়িত করেছে। তাদের মতে, পানের দাগ সাধারণ ঝাড়ু বা পানি দিয়ে পরিষ্কার করা সম্ভব হয় না; এর জন্য প্রয়োজন হয় বিশেষ রাসায়নিক ও উচ্চ প্রযুক্তির পরিষ্কারক যন্ত্র, যা কাউন্সিলের বাজেটে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
দেশীয় এই বদভ্যাস বিদেশের মাটিতে বয়ে নিয়ে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এখন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করছে লন্ডন কাউন্সিলগুলো। কেবল প্রচারণায় সীমাবদ্ধ না থেকে তারা হাঁটছে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পথে।
ইতিমধ্যেই হ্যারো কাউন্সিল জনসমক্ষে পানের পিক বা থুতু ফেলার অপরাধে ১০০ পাউন্ড জরিমানার বিধান চালু করেছে। অন্যদিকে ব্রেন্ট কাউন্সিল, যারা আগে এই অপরাধের জন্য ৮০ পাউন্ড জরিমানা করত, তারা এখন এই অর্থের পরিমাণ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। কাউন্সিলগুলোর মতে, প্রবাসীদের এই অসচেতনতা ও অপরিচ্ছন্ন মানসিকতা শহরের সৌন্দর্যহানির পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
বিদেশের মাটিতে নিজেদের দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল রাখতে এবং বিশাল অঙ্কের জরিমানা এড়াতে প্রবাসীদের এই বদভ্যাস ত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে কমিউনিটি লিডার ও সচেতন মহল।
Analysis | Habibur Rahman



