৭ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২১শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১লা শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি বিকাল ৩:৫৪ শনিবার বসন্তকাল
পবিত্র মাহে রমজান শুরু হতে এখনো সপ্তাহ দুয়েক বাকি। সাধারণত রোজার শুরুতে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা গেলেও, এবার ১৭ দিন আগেই রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে লেবু। ইফতারের অপরিহার্য এই উপাদানটির দাম গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে দিগুণ বা তিনগুণ বেড়ে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। বাজার পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, কিছুদিন আগে যে টাকায় এক ডজন লেবু মিলত, এখন সেই একই টাকায় পাওয়া যাচ্ছে মাত্র এক হালি বা চার পিস।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, শেখেরটেক এবং আশকোনা এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে লেবুর বাজারের এই অস্থির চিত্র।

হঠাৎ আকাশচুম্বী দাম
রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোতে মান ও আকারভেদে এক হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৮০ টাকায়। অর্থাৎ, একটি সাধারণ মানের লেবুর দামই পড়ছে সাড়ে ১২ থেকে ১৫ টাকা। অথচ মাত্র পনেরো দিন আগেও ২০ থেকে ৩০ টাকা হালিতে লেবু বিক্রি হয়েছে। লেবুর পাশাপাশি ইফতারের সালাদ তৈরির অন্যতম উপাদান শসার দামও চড়া। প্রতি কেজি শসা বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়।
বাজারে আসা ক্রেতাদের মতে, বর্তমানে আলু, টমেটো, শিম কিংবা ফুলকপির মতো সবজিগুলো এক হালি লেবুর চেয়েও কম দামে পাওয়া যাচ্ছে। ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষেরা লেবু কেনা কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
ক্রেতাদের ক্ষোভ ও হতাশা
বাজার করতে এসে লেবুর দাম শুনে রীতিমতো হতাশ ক্রেতারা। রাজধানীর শেখেরটেকে বাজার করতে আসা গৃহিণী রাশিদা খাতুন জানান, গত সপ্তাহেও তিনি ৩০ টাকা হালি দরে লেবু কিনেছেন। কিন্তু আজ (মঙ্গলবার) বাজারে এসে দেখেন সেই লেবুর দাম চাওয়া হচ্ছে ৭০ টাকা। তিনি বলেন, “দোকানদারকে ৫০ টাকা পর্যন্ত সাধলাম, কিন্তু তিনি দিতে রাজি হলেন না। তাই শেষমেশ লেবু না কিনেই বাসায় ফিরতে হচ্ছে।”
একই চিত্র দেখা গেছে কারওয়ান বাজারেও। শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা বেসরকারি চাকরিজীবী মোহাম্মদ শাহজালাল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দুই সপ্তাহ আগে ৬০ টাকায় এক ডজন (১২টি) লেবু কিনেছিলাম। আজ সেই ৬০ টাকায় কিনতে হলো মাত্র ৪টি লেবু। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে রোজায় লেবুর শরবত খাওয়া বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াবে।” তিনি জানান, অনেক দরদাম করে অবশেষে ১২০ টাকায় দুই হালি লেবু কিনেছেন তিনি।
কী বলছেন বিক্রেতারা?
হঠাৎ এই দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে বিক্রেতারা সরবরাহের ঘাটতি ও মৌসুম শেষ হওয়াকে দায়ী করছেন। শেখেরটেকের খুচরা বিক্রেতা তরিকুল ইসলাম জানান, পাইকারি বাজারেই লেবুর দাম আগুন। তিনি বলেন, “আজ সকালে কারওয়ান বাজার থেকে আড়াই হাজার টাকায় ২০০ পিস লেবু কিনেছি। যাতায়াত খরচ বাদে শুধু কেনা দামই পড়েছে পিসপ্রতি সাড়ে ১২ টাকা। তাই ৬০ টাকার নিচে হালি বিক্রি করলে লাভ থাকে না।”
মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের বিক্রেতা রুবেল হাওলাদার ভিন্ন একটি কারণ উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “এখন লেবুর মৌসুম শেষ। তার ওপর সামনে রোজা। অনেক চাষি রোজায় বাড়তি লাভের আশায় গাছ থেকে লেবু তুলছেন না, বাজারে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছেন। ফলে কৃত্রিম সংকটে দাম বাড়ছে। রোজার আগে দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই, বরং আরও বাড়তে পারে।”
সামনে আরও ভোগান্তির আশঙ্কা
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, রোজার এখনো ১৭ দিন বাকি। এখনই যদি লেবুর পিস ১২-১৫ টাকা হয়, তবে রমজানের শুরুতে তা সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যেতে পারে। ধনী-গরিব নির্বিশেষে ইফতারের পাতে লেবুর শরবতের চাহিদা থাকে তুঙ্গে। তাই এখনই বাজার মনিটরিং জোরদার না করলে রমজানে এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা সাধারণ ভোক্তাদের।
Analysis | Habibur Rahman
