১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি সকাল ১০:১৮ সোমবার বসন্তকাল
বিশ্বজুড়ে দ্রুত নগরায়ণ এবং কর্মব্যস্ত যান্ত্রিক জীবনে মানুষের খাদ্যাভ্যাসে এসেছে আমূল পরিবর্তন। সময়ের অভাবে ঘরের রান্নার বদলে রেস্তোরাঁ বা ফাস্ট ফুড সংস্কৃতির ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে জ্যামিতিক হারে। আর এই চাহিদাকে পুঁজি করে সেবা খাতের রেস্তোরাঁ ব্যবসা এখন বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম বড় চালিকাশক্তি। বাজার মূলধনের দিক থেকে বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দামি রেস্তোরাঁ চেইন হিসেবে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ম্যাকডোনাল্ডস’।
সম্প্রতি প্রকাশিত বৈশ্বিক কোম্পানিগুলোর বাজার মূলধনের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, শীর্ষ ১০টি রেস্তোরাঁ কোম্পানির বেশির ভাগই যুক্তরাষ্ট্রের। তবে এশীয় পরাশক্তি চীন ও জাপানের কোম্পানিগুলোও এই তালিকায় শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে।
শীর্ষে ম্যাকডোনাল্ডস সাম্রাজ্য
১৯৪০ সালে যাত্রা শুরু করা ম্যাকডোনাল্ডস বর্তমানে ২২২.১ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বাজার মূলধন নিয়ে ধরাছোঁয়ার বাইরে। বিশ্বের ৪১ হাজার ৮০০টিরও বেশি আউটলেটের মাধ্যমে হ্যাম বার্গার ও ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের এই সাম্রাজ্য পরিচালিত হচ্ছে। ১৯ লাখ কর্মীর বিশাল বাহিনী নিয়ে চলা এই কোম্পানিটি এখন শুধু মাংসেই সীমাবদ্ধ নেই, সময়ের প্রয়োজনে উদ্ভিদভিত্তিক ‘ম্যাক প্ল্যান্ট’ খাবারও বিক্রি করছে।
মার্কিন ব্র্যান্ডের দাপট
তালিকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানেও রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি। মাত্র তিন দশক আগে (১৯৯৩ সালে) প্রতিষ্ঠিত ‘চিপোৎলে মেক্সিকান গ্রিল’ এখন ৪৬.২৮ বিলিয়ন ডলার বাজার মূলধন নিয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম রেস্তোরাঁ চেইন। মেক্সিকান খাবার বুরিটো ও টাকোর জন্য বিখ্যাত এই প্রতিষ্ঠানটি ‘ফাস্ট ক্যাজুয়াল’ ডাইনিংয়ের ধারণা বদলে দিয়েছে।
অন্যদিকে, কেএফসি, পিৎজা হাট ও টাকো বেলের মতো বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডগুলোর মূল প্রতিষ্ঠান ‘ইয়াম ব্র্যান্ডস’ রয়েছে তৃতীয় স্থানে। ৪২.৫৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যের এই কোম্পানিটি মূলত ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলে ১৫৫টি দেশে ব্যবসা পরিচালনা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে পিৎজা ডেলিভারিতে বিপ্লব আনা ‘ডমিনোস পিৎজা’ (সপ্তম), স্টেক হাউসের জন্য বিখ্যাত ‘ডারডেন রেস্টুরেন্ট’ (পঞ্চম) এবং ‘টেক্সাস রোডহাউস’ (অষ্টম) শীর্ষ দশে জায়গা করে নিয়েছে।
কানাডা ও এশিয়ার অবস্থান
মার্কিন আধিপত্যের মাঝে চতুর্থ স্থানে রয়েছে কানাডার ‘রেস্টুরেন্ট ব্র্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল’। বার্গার কিং ও টিম হরটন্সের মতো ব্র্যান্ডগুলোর মালিকানা প্রতিষ্ঠানটির বাজার মূলধন প্রায় ৩৩ বিলিয়ন ডলার।
এশিয়ার প্রতিনিধি হিসেবে চীনের দুটি এবং জাপানের একটি কোম্পানি শীর্ষ দশে উঠে এসেছে। ষষ্ঠ স্থানে থাকা ‘ইয়াম চায়না’ একসময় মার্কিন ইয়াম ব্র্যান্ডসের অংশ থাকলেও ২০১৬ সাল থেকে স্বতন্ত্রভাবে ব্যবসা করে ১৭.২৩ বিলিয়ন ডলারের কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। নবম স্থানে থাকা চীনের ‘হাই দি লাও হটপট’ তাদের প্রিমিয়াম সেবার জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। আর গরুর মাংসের বিভিন্ন পদের জন্য বিখ্যাত জাপানের ‘জেনশো হোল্ডিংস’ ৯.৩২ বিলিয়ন ডলার বাজার মূলধন নিয়ে দশম স্থানে অবস্থান করছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, রেস্তোরাঁগুলো এখন কেবল খাবার বিক্রির স্থান নয়, বরং প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রাহক সেবায় নতুন মাত্রা যোগ করে শেয়ার বাজারেও নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে।
তথ্যসূত্র: কোম্পানিজ মার্কেট ক্যাপ ডটকম
Analysis | Habibur Rahman

