.
অর্থনীতি

রেকর্ড গড়ার পথে রেমিট্যান্স: ১৭ দিনেই এল ২ বিলিয়ন ডলার, রিজার্ভে বড় স্বস্তি

Email :20

১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৫শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি রাত ৩:২৬ বৃহস্পতিবার শীতকাল

বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে প্রবাসীদের পাঠানো আয়ে (রেমিট্যান্স) বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর জোয়ারে চলতি মাসের প্রথম ১৭ দিনেই আয়ের পরিমাণ ২ বিলিয়ন বা ২০০ কোটি ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। রেমিট্যান্স প্রবাহের এই উর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকলে মাস শেষে তা ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা দেখছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা।

রেমিট্যান্সের পাশাপাশি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও ফিরেছে স্বস্তি। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসীদের পাঠানো আয়ের ওপর ভর করে গত বৃহস্পতিবার নাগাদ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ ৩২ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন (৩ হাজার ২৫৭ কোটি) ডলারে পৌঁছেছে।

রিজার্ভ নিয়ে গভর্নরের আশাবাদ
বাজার থেকে ডলার কিনে রিজার্ভ বাড়ানোর কৌশলে হাঁটছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, “চলতি ডিসেম্বর মাস শেষ হওয়ার আগেই দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪ থেকে ৩৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে বলে আশা করছি। বিশেষ করে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বা অন্য কোনো সংস্থার ঋণের ওপর নির্ভর না করে, নিজস্ব বাজার থেকে ডলার সংগ্রহের মাধ্যমে এই রিজার্ভ বাড়ানো হচ্ছে, যা অর্থনীতির জন্য একটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও শক্তিশালী সিদ্ধান্ত।”

রেমিট্যান্স প্রবাহের পরিসংখ্যান
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, ১ থেকে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২০০ কোটি ৭ লাখ মার্কিন ডলার। এর মধ্যে শুধুমাত্র ১৭ ডিসেম্বর একদিনেই প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ১৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ের (১-১৭ ডিসেম্বর) তুলনায় চলতি মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। গত বছর এই সময়ে এসেছিল ১৭৬ কোটি ডলার।

চলতি অর্থবছরের হিসাব বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, জুলাই থেকে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট প্রবাসী আয় এসেছে ১ হাজার ৫০৫ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই অংক ছিল ১ হাজার ২৯০ কোটি ডলার। অর্থাৎ, গত বছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এর আগে গত নভেম্বর মাসেও প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছিলেন প্রায় ২৮৯ কোটি ডলার।

পটপরিবর্তন ও রেকর্ডের হাতছানি
২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর ধারাবাহিকতায় গত মার্চ মাসে দেশের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স আসার রেকর্ড গড়েছিল। এরপরের মাসগুলোতে ৩০০ কোটি ডলারের সীমা স্পর্শ না করলেও, চলতি ডিসেম্বরে সেই রেকর্ড আবারও ভাঙার বা কাছাকাছি পৌঁছানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত মোট প্রবাসী আয় এসেছে ৩ হাজার ৩৩ কোটি ডলার, যেখানে পুরো ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এসেছিল ২ হাজার ৩৯১ কোটি ডলার।

নেপথ্যের কারণ
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হুন্ডির বিরুদ্ধে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর অবস্থান এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে নানামুখী প্রণোদনা ও সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে প্রবাসীরা এখন বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন। এতে একদিকে যেমন ডলার সংকট কাটছে, অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়াচ্ছে।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts