১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি দুপুর ২:৪৬ বুধবার বসন্তকাল
গাজায় গত ১০ অক্টোবর থেকে চলা যুদ্ধবিরতির মধ্যেও থামছে না মৃত্যুর মিছিল। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) গাজা সিটিতে ইসরায়েলি ড্রোনের নিশানায় প্রাণ হারিয়েছেন ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা ও তাঁর ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সাংবাদিকদের বরাতে জানা গেছে, একটি ইসরায়েলি কোয়াডকপ্টার ড্রোন ওই বৃদ্ধা ও তাঁর সন্তানকে অনেকটা পথ ধাওয়া করে এবং শেষ পর্যন্ত তাদের ওপর হামলা চালায়।
আল-জাজিরার প্রতিনিধি হানি মাহমুদ জানিয়েছেন, হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটেছে ইসরায়েলি বাহিনীর নির্ধারিত তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ বা অঘোষিত সীমানার প্রায় এক কিলোমিটার দূরে। ড্রোনটি দীর্ঘক্ষণ ধরে তাদের মাথার ওপর ওড়াউড়ি করছিল এবং তাড়া করছিল। ড্রোন আতঙ্কে কেউ তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসতে সাহস পাননি। ফলে দীর্ঘক্ষণ রাস্তায় পড়ে থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মা ও ছেলের মৃত্যু হয়।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, নিহতরা তাদের নির্ধারিত ‘ইয়েলো লাইন’ অতিক্রম করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে স্থানীয়রা বলছেন, এই সীমানার কোনো দৃশ্যমান চিহ্ন বা নির্দেশিকা নেই, ফলে সাধারণ ফিলিস্তিনিরা অজান্তেই মৃত্যুফাঁদে পা দিচ্ছেন। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৫০ দিনের যুদ্ধবিরতির মধ্যে ইসরায়েল অসংখ্যবার শর্ত লঙ্ঘন করেছে, যার সর্বশেষ নির্মম বলি হলেন এই বৃদ্ধা।
একই দিন গাজার বেইত লাহিয়া, জাবালিয়া এবং জেইতুন এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় মোট সাতজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া গাজা সিটির শুজাইয়া এলাকায় ট্যাংক ও স্থলবাহিনী নিয়ে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। সেখানে আবাসিক ভবন ও জনগুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং গাজা শহরের পূর্বাংশ বিচ্ছিন্ন করতে বালুর বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত গাজায় অন্তত ৩৬৭ জন ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ৭০ জনই শিশু। আহত হয়েছেন প্রায় এক হাজার মানুষ।
এদিকে শীতের আগমনে গাজার মানবিক পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা বিটিসেলেমের তথ্যমতে, গত মাসের ঝড়ে বাস্তুচ্যুতদের ১৩ হাজারের বেশি তাঁবু ধ্বংস হয়ে গেছে। ত্রাণের ওপর ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞার কারণে শীতবস্ত্র ও খাবার পৌঁছাচ্ছে না। জাতিসংঘের ওসিএইচএ জানিয়েছে, বর্তমানে গাজার প্রতি চারটি পরিবারের একটি দিনে মাত্র এক বেলা খাবার পাচ্ছে।
কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান বিন জসিম আল থানি সতর্ক করে বলেছেন, গাজার যুদ্ধবিরতি এখন অত্যন্ত ‘সংকটপূর্ণ মুহূর্তে’ দাঁড়িয়ে আছে। স্থায়ী সমাধানের পথ না খুঁজলে এই ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি যেকোনো সময় পুরোপুরি ভেঙে পড়তে পারে।
Analysis | Habibur Rahman

