.
রাজনীতি

যাচাই-বাছাইয়ে বাদ পড়লেন বিএনপির দুই বিদ্রোহীসহ তিন প্রার্থী, টিকে রইলেন যারা

Email :42

১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি সন্ধ্যা ৭:৩৪ সোমবার বসন্তকাল

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নওগাঁ-১ (নিয়ামতপুর, পোরশা ও সাপাহার) আসনে নির্বাচনী উত্তাপ শুরু হয়েছে। প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের প্রথম দিনেই বড় ধরণের ধাক্কা খেয়েছেন একাধিক স্বতন্ত্র ও দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী। রোববার (আজ) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় বিএনপির দুই ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীসহ মোট তিনজনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এছাড়া মামলার তথ্য গোপন করায় এক প্রার্থীর মনোনয়ন স্থগিত রাখা হয়েছে।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকাল থেকে নওগাঁ জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে উৎসবমুখর অথচ গম্ভীর পরিবেশে মনোনয়নপত্র যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নওগাঁর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন।

বাতিল হলেন যারা এবং কেন
রিটার্নিং কর্মকর্তার দোলকানো যাচাই-বাছাইয়ের খড়গ পড়েছে মূলত অসম্পূর্ণ তথ্য ও নথিপত্র জমা না দেওয়ার ওপর। বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে অন্যতম হলেন নিয়ামতপুর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি নুরুল ইসলাম। তিনি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিলেও দলের পক্ষ থেকে কোনো মনোনয়ন বা প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে ব্যর্থ হন। দলীয় প্রতীকের দাবিদার হয়েও কাগজপত্রে স্বতন্ত্র বা দলীয় কোনো অবস্থান পরিষ্কার করতে না পারায় তার মনোনয়নপত্রটি বাতিল করা হয়।

বাদ পড়া আরেক আলোচিত প্রার্থী হলেন যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য মাহমুদুস সালেহীন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেওয়া সালেহীনের বাতিল হওয়ার কারণটি বেশ অদ্ভুত। নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীর নাম অন্য কেউ প্রস্তাব করতে হয়, কিন্তু তিনি নিজেই নিজের নাম প্রস্তাব করেছেন। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী এলাকার ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক যে তালিকা জমা দিতে হয়, সেটিও তিনি জমা দেননি।

তৃতীয় যে প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, তিনি হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সোহরাব হোসেন। তার জমাকৃত হলফনামায় তিন জায়গায় তথ্যের গুরুতর গরমিল পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরিত তালিকায় অসংগতি থাকায় তাকে নির্বাচনের অযোগ্য ঘোষণা করা হয়।

স্থগিত ১, বৈধ হলেন ৪ জন
যাচাই-বাছাইকালে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী আবদুল হক শাহর হলফনামায় মামলার তথ্য গোপনের বিষয়টি নজরে আসে। তবে তাকে নির্বাচন থেকে সরাসরি বাদ না দিয়ে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। যথাযথ নথিপত্র দাখিলের জন্য তার মনোনয়নপত্রটি দুই ঘণ্টার জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে সঠিক কাগজ দেখাতে পারলে তিনি বৈধতা পাবেন।

অন্যদিকে, সকল কাগজপত্র সঠিক থাকায় চারজন প্রার্থীকে বৈধ বলে ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। তারা হলেন—বিএনপির মূল মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাহবুবুল আলম, জাতীয় পার্টির প্রার্থী আকবর আলী এবং বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ হিসেবে পরিচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী ছালেক চৌধুরী।

মনোনয়নপত্র বাতিলের বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “নির্বাচনী আচরণবিধি ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেই এই যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। যাদের কাগজপত্রে ঘাটতি ছিল বা যারা ভুল তথ্য দিয়েছেন, নিয়ম অনুযায়ী তাদের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে।”

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts