.
অন্যান্য

ম্যান্ডেটবিহীন সরকারের দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত ‘কৌশলগত ভুল’: বন্দর ও এলডিসি ইস্যুতে তারেক রহমান

Email :67

১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি সন্ধ্যা ৭:২৩ সোমবার বসন্তকাল

অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকার দেশের দীর্ঘমেয়াদি ভাগ্য নির্ধারণী কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে না—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও পানগাঁওয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ইজারা দেওয়া এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের বিষয়ে সরকারের তাড়াহুড়োকে ‘এখতিয়ারবহির্ভূত’ ও ‘কৌশলগত ভুল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।

সোমবার (১৮ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি এসব বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, যে সরকারকে জনগণ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেনি, তাদের এমন কোনো কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নেই, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডিতে আটকে ফেলে।

বন্দর ইজারা ও ম্যান্ডেট সংকট
সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল এবং ঢাকার পানগাঁও নৌ টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া নিয়ে আলোচনা চলছে। তারেক রহমান মনে করেন, এগুলো সরকারের নিয়মিত দাপ্তরিক কাজ বা ‘রুটিন ওয়ার্ক’ নয়; বরং এগুলো জাতীয় সম্পদের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলার মতো সিদ্ধান্ত।

তিনি বলেন, ‘জনগণ যাদের নির্বাচিত করেনি, সেই সরকার দেশের দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দিতে পারে না। জনগণের গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেট ছাড়া নেওয়া এসব সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে জাতির জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে।’

এলডিসি উত্তরণ: ‘যোগ্য’ আর ‘প্রস্তুত’ এক নয়
২০২৬ সালে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে বেরিয়ে উন্নয়নশীল দেশে পদার্পণ করবে—অন্তর্বর্তী সরকারের এমন অটল অবস্থানের সমালোচনা করেছেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা। তিনি বলেন, ‘উত্তরণের জন্য যোগ্য হওয়া আর প্রস্তুত হওয়া—দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।’

উদাহরণ হিসেবে তিনি অ্যাঙ্গোলা ও সামোয়ার কথা উল্লেখ করেন, যারা অর্থনৈতিক বাস্তবতার নিরিখে উত্তরণের সময়সীমা পিছিয়ে নিয়েছে। তারেক রহমান প্রশ্ন রাখেন, ‘জাতিসংঘ যেখানে নমনীয়তা দেখাচ্ছে, সেখানে আমরা কেন বিকল্প নেই বলে ভান করছি? আলোচনার আগেই নিজেদের অবস্থান দুর্বল করে ফেলার মাধ্যমে আমরা আদতে আমাদের দর-কষাকষির সক্ষমতাকেই নষ্ট করছি।’

তৃণমূল অর্থনীতির বাস্তব চিত্র
এলডিসি থেকে তড়িঘড়ি উত্তরণের ফলে সাধারণ মানুষের ওপর কী প্রভাব পড়তে পারে, তা বোঝাতে তারেক রহমান গাজীপুরের এক পোশাক কারখানার মালিক ও নারায়ণগঞ্জের এক শ্রমিক পরিবারের উদাহরণ টেনে আনেন।

তিনি লিখেন, ‘শুল্কসুবিধা উঠে গেলে গাজীপুরের সেই ছোট কারখানার মালিককে বিশ্ববাজারে অসম প্রতিযোগিতায় পড়তে হবে। ক্রয়াদেশ কমবে, আর এর অনিবার্য পরিণতি হবে শ্রমিক ছাঁটাই। নারায়ণগঞ্জের যে তরুণ স্নাতক তার বাবাকে ওভারটাইম করে সংসার চালাতে দেখছেন, তিনি দেখবেন বাবার আয় কমে যাচ্ছে। এসব নীরব সংকট সংবাদপত্রের শিরোনাম হয় না, কিন্তু ঘরের ভেতরকার হাহাকার হয়ে বাজে।’

কৌশলগত দুর্বলতা
তারেক রহমান অভিযোগ করেন, চট্টগ্রাম বন্দরের মতো এলডিসি ইস্যুতেও সব বিকল্প পথ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। জনগণের যৌক্তিক সমালোচনা বা উদ্বেগগুলোকে ‘দ্রুততা ও অনিবার্যতা’র অজুহাতে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে।

পোস্টের শেষাংশে তিনি মন্তব্য করেন, প্রকৃত জাতীয় শক্তিমত্তা কোনো হঠকারী সিদ্ধান্তে নয়, বরং ভুল সিদ্ধান্ত অপরিবর্তনীয় হয়ে ওঠার আগেই কঠিন প্রশ্ন করার সাহসের ওপর নির্ভর করে। অন্তর্বর্তী সরকারকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে প্রয়োজনে বাড়তি সময় চাওয়া কোনো অপমানের বিষয় নয়।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts