১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৫শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি সকাল ১০:৩৭ বৃহস্পতিবার শীতকাল
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের অংশগ্রহণ ঘিরে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) নিরাপত্তা বিভাগ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) একটি চিঠি দিয়ে জানিয়েছে যে, ফাস্ট বোলার মোস্তাফিজুর রহমানকে দলে অন্তর্ভুক্ত করলে ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের নিরাপত্তা ঝুঁকি বহুগুণে বৃদ্ধি পেতে পারে। আইসিসির এমন ‘উদ্ভট’ ও ‘অযৌক্তিক’ শর্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার বাফুফে ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আইসিসির নিরাপত্তা বিভাগ তাদের চিঠিতে তিনটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ের কথা উল্লেখ করেছে, যা ভারতে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। এর মধ্যে প্রধান কারণ হিসেবে বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানের বিশ্বকাপ দলে অন্তর্ভুক্তিকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
অধ্যাপক নজরুল জানান, আইসিসির সিকিউরিটি টিম তাদের চিঠিতে উল্লেখ করেছে, তিনটি জিনিস হলে বাংলাদেশ টিমের নিরাপত্তা আশঙ্কা বাড়বে:
১. বাংলাদেশ দলে যদি মোস্তাফিজুর রহমানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
২. বাংলাদেশের সমর্থকরা যদি জাতীয় জার্সি পরে ঘোরাফেরা করেন।
৩. বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, তত দলের নিরাপত্তাঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে।
আইসিসির এমন বক্তব্যকে ‘উদ্ভট’, ‘অযৌক্তিক’ ও ‘অবাস্তব প্রত্যাশা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন অধ্যাপক আসিফ নজরুল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আইসিসি যদি আশা করে আমরা আমাদের শ্রেষ্ঠ বোলারকে বাদ দিয়ে দল গড়ব, সমর্থকরা জার্সি পরতে পারবে না আর খেলার জন্য নির্বাচন পিছিয়ে দেব, তবে এর চেয়ে অবাস্তব প্রত্যাশা আর হতে পারে না।” তিনি সাফ জানিয়ে দেন, আইসিসির এই ধরনের শর্তাবলি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
অধ্যাপক নজরুল ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির কড়া সমালোচনা করে বলেন, সেখানে “উগ্র সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশ-বিদ্বেষী পরিবেশ বিরাজ করছে।” বিশেষ করে গত ১৬ মাস ধরে চলা “অব্যাহত ক্যাম্পেইনের” প্রেক্ষাপটে ভারতে ক্রিকেট খেলা অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। মোস্তাফিজের মতো একজন খেলোয়াড়কে ঘিরে আইসিসির নিরাপত্তা বিষয়ক এমন চিঠি, ভারতের খেলার পরিবেশের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে বলে তিনি মনে করেন।
ক্রিকেট বিশ্বে কোনো একক দেশের ‘একচেটিয়া আধিপত্য’ থাকা উচিত নয় উল্লেখ করে অধ্যাপক নজরুল আইসিসিকে ‘গ্লোবাল অর্গানাইজেশন’ হিসেবে ভারতের কথায় ‘ওঠবস’ না করার আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আইসিসি যদি সত্যিই গ্লোবাল অর্গানাইজেশন হয় এবং ভারতের কথায় ওঠবস না করে, তবে অবশ্যই বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কায় খেলার সুযোগ দেওয়া উচিত। এই প্রশ্নে আমরা কোনো রকম নতি স্বীকার করব না।”
বিকল্প ভেন্যু প্রসঙ্গে ক্রীড়া উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশ পাকিস্তান বা সংযুক্ত আরব আমিরাতেও বিশ্বকাপ আয়োজনে আপত্তি নেই। তিনি উল্লেখ করেন, “আমি পত্রিকায় দেখলাম, আমি জানি না সত্যি নাকি মিথ্যা, পাকিস্তান নাকি আমাদের টুর্নামেন্টগুলো আয়োজন করার প্রস্তাব দিয়েছে। পাকিস্তানে করেন কোনো সমস্যা নাই, সংযুক্ত আরব আমিরাতে করেন কোনো সমস্যা নাই।”
ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল তাঁর বক্তব্যে উপসংহার টানেন এই বলে যে, “যেখানে আমাদের দলের একটা প্লেয়ারের খেলার পরিবেশ নাই, এই উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তির কাছে মাথা নত করে ভারতের জাতীয় ক্রিকেট বোর্ড—ন্যাশনাল একটা অথরিটি, তারা যখন বলে তাকে এখানে খেলানো না হোক, এর চেয়ে বড় প্রমাণ আর কী আছে আইসিসির সামনে, বুঝলাম না। এটা তো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করে যে আমাদের ওখানে খেলার পরিবেশ নাই। ভারতের কোনো জায়গাতে খেলার পরিবেশ নাই।”
এই চিঠি এবং তার প্রতিক্রিয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন করে সংকট তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, আইসিসি এবং বিসিবি এই অচলাবস্থা থেকে বের হয়ে আসার জন্য কী পদক্ষেপ নেয়।
Analysis | Habibur Rahman
