১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৫শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি দুপুর ১:১৫ বৃহস্পতিবার শীতকাল
যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী আলোচিত সাংবাদিক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ইলিয়াস হোসেনের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজটি হঠাৎ উধাও হয়ে যাওয়ার পর থেকেই নেটদুনিয়ায় নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়। অনেকেই ধারণা করছিলেন, সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার প্রেক্ষিতে উস্কানিমূলক বার্তার অভিযোগে মেটা (ফেসবুক) কর্তৃপক্ষ হয়তো তার পেজটি রিমুভ বা বাতিল করেছে। তবে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে ভিন্ন তথ্য। জানা গেছে, মেটার কোনো অ্যাকশন বা নিষেধাজ্ঞা নয়, বরং নিজের সিদ্ধান্তেই পেজটি আড়াল করেছেন ইলিয়াস।
ইলিয়াস হোসেনের ফেসবুক পেজ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা একজন অ্যাডমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মেটা কর্তৃপক্ষ পেজটি রিমুভ করেনি। মূলত নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে ইলিয়াস নিজেই তার পেজটি সাময়িকভাবে ‘আনপাবলিশড’ (Unpublished) মোডে রেখেছেন।
সূত্রমতে, ইলিয়াস হোসেনের দুটি সক্রিয় ফেসবুক পেজ রয়েছে। এর মধ্যে একটিতে প্রায় ২০ লাখ এবং অন্যটিতে প্রায় ৮ লাখ ফলোয়ার যুক্ত আছেন। নিরাপত্তার খাতিরে দুটি পেজই সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হলেও, বর্তমানে ৮ লাখ ফলোয়ারের পেজটি পুনরায় সচল বা ‘পাবলিশড’ করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৮ ডিসেম্বর। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনার রেশ ধরে দেশের দুটি শীর্ষ জাতীয় দৈনিক—প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার এবং ছায়ানট ও উদীচীর মতো ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ রয়েছে, দেশের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই বৃহস্পতিবার রাতে ইলিয়াস হোসেন তার ভেরিফাইড পেজ থেকে একাধিক স্ট্যাটাস দেন। তার এসব বক্তব্যকে অনেকেই ‘উস্কানিমূলক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এর ঠিক পরদিন, অর্থাৎ শুক্রবার রাত থেকেই ফেসবুকে তার পেজটি আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এতে সাধারণ ব্যবহারকারী ও নেটিজেনদের মধ্যে ধারণা জন্মে যে, হয়তো ব্যাপক রিপোর্টিংয়ের কারণে মেটা কর্তৃপক্ষ পেজটি ডিলিট করে দিয়েছে।
তবে পেজ অ্যাডমিনের সাম্প্রতিক বক্তব্যে পরিষ্কার হলো যে, পেজটি অদৃশ্য হওয়ার পেছনে মেটার কোনো হাত নেই। বরং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সতর্কতার অংশ হিসেবেই পেজটি সাময়িকভাবে আনপাবলিশড রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। Analysis | Habibur Rahman
