১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি বিকাল ৫:৪৭ সোমবার বসন্তকাল
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সমমনা ও শরিক দলগুলোর সঙ্গে আসন সমঝোতার জট খুলতে শুরু করেছে বিএনপি। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (২৪ ডিসেম্বর ২০২৫) আরও ১০টি আসনে মিত্র দলের শীর্ষ নেতাদের প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদুর রহমান মান্না, সাইফুল হক, জোনায়েদ সাকি ও নুরুল হক নুরসহ জোটের হেভিওয়েট নেতাদের নির্বাচনী এলাকার নাম প্রকাশ করা হয়।

এদিন সংবাদ সম্মেলনের অন্যতম বড় চমক ছিল এলডিপি ও এনডিএম-এর শীর্ষ দুই নেতার বিএনপিতে আনুষ্ঠানিক যোগদান।
কে কোন আসনে লড়বেন
বিএনপির ঘোষণা অনুযায়ী, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না ধানের শীষের সমর্থন নিয়ে লড়বেন তার পুরোনো নির্বাচনী এলাকা বগুড়া-২ থেকে। ঢাকার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-১২ আসনে জোটের প্রার্থী হিসেবে লড়বেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।
তরুণ প্রজন্মের কাছে পরিচিত মুখ এবং গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে পটুয়াখালী-৩ আসনটি ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। একই দলের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন মনোনয়ন পেয়েছেন ঝিনাইদহ-৪ আসনের জন্য। এছাড়া বাম ঘরানার আরেক শীর্ষ নেতা ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসন থেকে।
অন্যান্য শরিকদের মধ্যে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) প্রবীণ নেতা ও চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার পিরোজপুর-১ এবং ইসলামী ঐক্যজোটের মুফতি রশিদ যশোর–৫ আসনে জোটের প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত হয়েছেন।
বিএনপিতে যোগদান ও প্রতীক বরাদ্দ
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব জানান, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ তার দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। তিনি আসন্ন নির্বাচনে ঢাকা–১৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
অন্যদিকে, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেদোয়ান আহমেদও এদিন বিএনপিতে যোগ দেন। তিনি তার দীর্ঘদিনের নির্বাচনী এলাকা কুমিল্লা–৭ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে লড়বেন।
এছাড়া নির্বাচন কমিশনে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) নিবন্ধিত না থাকায় দলটির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ নড়াইল–২ আসনে বিএনপির দলীয় প্রতীক ‘ধানের শীষ’ নিয়েই নির্বাচন করবেন বলে জানানো হয়েছে।
বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রতি হুঁশিয়ারি
আসন ভাগাভাগির ঘোষণা দিতে গিয়ে মির্জা ফখরুল দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার বিষয়ে কঠোর বার্তা দেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, শরিক ও মিত্রদের যেসব আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, সেখানে বিএনপির কোনো নেতা স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থী হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যারা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেননি, তারা নিজ নিজ দলের প্রতীকে অথবা জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করতে পারবেন।
নির্বাচনী পরিসংখ্যান ও চলমান আলোচনা
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি এরমধ্যেই ২৭২টি আসনে তাদের দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে। বাকি ২৮টি আসন রাখা হয়েছে শরিক ও মিত্র দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার জন্য।
এর আগে গত মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশকে চারটি আসন (সিলেট-৫, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, নীলফামারী-১ ও নারায়ণগঞ্জ-৪) ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল বিএনপি। মির্জা ফখরুল জানান, আসন বণ্টন নিয়ে মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা এখনো চলমান রয়েছে এবং নতুন কোনো সিদ্ধান্ত হলে তা পরবর্তীতে গণমাধ্যমকে জানানো হবে।
Analysis | Habibur Rahman