১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি দুপুর ২:৪৫ বুধবার বসন্তকাল
ফিলিস্তিনের গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার নাম করে অর্থ সংগ্রহ এবং সেই অর্থ গোপনে স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের কাছে পাচার করার অভিযোগে ইতালিতে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে দেশটির পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মূল হোতাসহ মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ইতালির সন্ত্রাসবাদবিরোধী পুলিশ এবং আর্থিক অপরাধ দমন শাখার যৌথ অভিযানে এই চক্রটিকে শনাক্ত করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ইতালিতে বসবাসরত ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়ের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও ‘প্যালেস্টিনিয়ান অ্যাসোসিয়েশন’-এর সভাপতি মোহাম্মদ হান্নুনও রয়েছেন।
ত্রাণের নামে সন্ত্রাসে অর্থায়ন
ইতালির তদন্তকারী সংস্থার দেওয়া তথ্যমতে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র হিসেবে কাজ করছিলেন। তাঁরা সাধারণ মানুষের কাছে ফিলিস্তিনের যুদ্ধবিধ্বস্ত ও অসহায় নাগরিকদের জন্য খাবার, ওষুধ ও মানবিক সহায়তার কথা বলে চাঁদা সংগ্রহ করতেন। কিন্তু তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, এই বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রকৃত গন্তব্য ছিল হামাস। পুলিশ দাবি করেছে, সংগৃহীত অর্থ একটি অত্যন্ত জটিল এবং বিশেষ লেনদেন ব্যবস্থার মাধ্যমে হামাসের কোষাগারে পাঠানো হতো, যা পরবর্তীতে বিভিন্ন সশস্ত্র কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
বিপুল সম্পদ বাজেয়াপ্ত
অভিযানের অংশ হিসেবে পুলিশ শুধু সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তারই করেনি, বরং তাদের মালিকানাধীন প্রায় ৮০ লাখ ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় শতকোটি টাকা) সমমূল্যের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করেছে। পুলিশের নথিপত্র অনুযায়ী, চক্রটি হামাসের জন্য প্রায় ৭০ লাখ ইউরো তহবিল সংগ্রহ করেছিল। অবৈধভাবে অর্থ স্থানান্তর এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রমে সহায়তার অভিযোগে এই সম্পদ জব্দ করা হয়।
তদন্তের সূত্রপাত ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে
ইতালির পুলিশ জানিয়েছে, এই তদন্তের সূত্রপাত হয় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর। ওই ঘটনার পর থেকেই ইউরোপজুড়ে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনগুলোর ওপর কড়া নজরদারি শুরু করে গোয়েন্দারা। সেই ধারাবাহিকতায় বেশ কিছু ‘সন্দেহজনক ট্রানজেকশন’ বা আর্থিক লেনদেনের প্রতিবেদন পুলিশের হাতে আসে। এসব প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করেই তদন্তকারীরা এই গোপন তহবিল সংগ্রহকারী চক্রটির সন্ধান পান।
সরকারি ভাষ্য ও অভিযুক্তের অবস্থান
ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও পিয়ান্তেদোসি এই অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মোহাম্মদ হান্নুন একটি পরিচিত মুখ, যিনি দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে প্যালেস্টিনিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
তবে, অভিযুক্ত মোহাম্মদ হান্নুন এর আগেও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা হামাসকে অর্থায়নের অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন যে, তাঁর বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তবে পুলিশি তদন্তে ভিন্ন চিত্র উঠে আসায় শেষ পর্যন্ত তাকে আইনের আওতায় আনা হলো।
এই গ্রেপ্তারের ঘটনাটি ইউরোপে হামাসের কথিত নেটওয়ার্ক এবং অর্থায়ন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলোর কঠোর অবস্থানেরই ইঙ্গিত দেয়।
Analysis | Habibur Rahman
