১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি দুপুর ১:৩৭ সোমবার বসন্তকাল
নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলে ফের নেমে এলো বিষাদময় এক রাত। ২১ নভেম্বর, ২০২৫—শুক্রবার ভোররাতে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হামলায় তছনছ হয়ে গেল আগওয়ারার সেন্ট মেরি ক্যাথলিক স্কুলের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ। স্থানীয় ও নিরাপত্তা সূত্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় অন্তত ৫২ জন শিক্ষার্থীকে অপহরণ করা হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশটির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এটি দ্বিতীয় বড় ধরনের আঘাত।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, স্থানীয় সময় রাত তখন আনুমানিক ২টা। গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন স্কুলের হোস্টেলে আচমকাই হানা দেয় ভারী অস্ত্রে সজ্জিত একদল দুর্বৃত্ত, যারা স্থানীয়ভাবে ‘ব্যান্ডিট’ নামে পরিচিত। সন্ত্রাসীরা হোস্টেলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে শিক্ষার্থীদের জিম্মি করতে শুরু করে। এ সময় বাধা দিতে গেলে স্কুলের এক নিরাপত্তাকর্মীকে গুলি করা হয় এবং শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি কয়েকজন স্টাফ সদস্যকেও তুলে নিয়ে যায় হামলাকারীরা।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা একে নাইজেরিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর চলমান হুমকি হিসেবে দেখছেন। এই ঘটনার মাত্র কয়েক দিন আগেই পার্শ্ববর্তী কেবি (Kebbi) রাজ্যের একটি সরকারি বোর্ডিং স্কুলে হানা দিয়ে ২৫ জন ছাত্রীকে অপহরণ করেছিল দস্যুরা। সেই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের বাঁচাতে গিয়ে নির্মমভাবে প্রাণ হারান স্কুলটির ভাইস প্রিন্সিপাল। পরপর দুটি বড় অপহরণের ঘটনা অভিভাবকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।
নাইজার রাজ্য সরকার ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত মর্মান্তিক’ হিসেবে অভিহিত করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অপহৃতদের উদ্ধারে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর বিশেষ ট্যাকটিক্যাল ইউনিটকে ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে। পার্শ্ববর্তী জঙ্গল ও সন্দেহভাজন আস্তানাগুলোতে জোরদার তল্লাশি বা ‘সার্চ-অ্যান্ড-রেসকিউ’ অপারেশন চলছে।
এদিকে, এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবু তার পূর্বনির্ধারিত সরকারি সফর স্থগিত করেছেন। তিনি নিরাপত্তা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন এবং শিক্ষার্থীদের অক্ষত অবস্থায় ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, নিরাপত্তা সংস্থাগুলো অপহৃতদের সঠিক সংখ্যা যাচাই-বাছাই করছে, তবে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে এই সংখ্যা অর্ধশতাধিক হতে পারে। মুক্তিপণের জন্য স্কুলপড়ুয়াদের লক্ষ্যবস্তু করার এই জঘন্য প্রবণতা নাইজেরিয়ার উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আবারও প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
Analysis | Habibur Rahman


