১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি বিকাল ৫:৪৫ সোমবার বসন্তকাল
মসজিদ পরিচালনার ক্ষেত্রে বিদ্যমান রীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, মসজিদ কমিটি গঠনে ইমাম ও খতিবদের পরামর্শই হবে প্রধান মাপকাঠি এবং তাঁদেরকে কমিটির ‘প্রাণপুরুষ’ হিসেবে মর্যাদা দিতে হবে। ইমামদের করুণার পাত্র না বানিয়ে বরং তাঁদের নেতৃত্বে সমাজ গড়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সম্প্রতি এক সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে জামায়াত আমির এসব কথা বলেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে মসজিদ কমিটিতে ইমামদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয় না। অথচ জীবিত অবস্থায় মুসল্লিরা ইমামের পেছনে নামাজ পড়েন এবং মৃত্যুর পর এই ইমামরাই তাদের জানাজার নেতৃত্ব দেন। তিনি ইমাম ও খতিবদের ‘ইমামুল হাইয়্যা ও মাইয়্যা’ (জীবন ও মৃত্যুর নেতা) হিসেবে অভিহিত করে বলেন, “আমরা কলিজার ভেতর থেকে আপনাদের প্রতি আজব সম্মান দেখাতে চাই। আমাদের ইমাম ও খতিবরা কারও করুণার পাত্র হবেন, এটা আমরা দেখতে চাই না।”
ডা. শফিকুর রহমান মসজিদ কমিটি থেকে ইমামদের হুট করে বাদ দেওয়ার সংস্কৃতির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “কারও ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের জেরে জোহরের সময় সিদ্ধান্ত নিয়ে আসরের সময় ইমামকে বিদায় করে দেওয়া—এমন অবিচার আমরা চাই না। ইমামদের ভুল হলে তা সম্মানজনকভাবে সমাধান করতে হবে, অপমান করে নয়।”
বক্তব্যে দেশের ৯০ ভাগ মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নবীজির (সা.) আদর্শ বাদ দিয়ে অন্য কোনো মতবাদ বা তন্ত্র-মন্ত্র দিয়ে সমাজে শান্তি ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আল্লাহর দেওয়া বিধান ও কোরআনের আইনের ভিত্তিতে সমাজ পরিচালিত হলে কেবল মুসলমান নয়, অন্য ধর্মের মানুষেরাও তাদের অধিকার ও নিরাপত্তা পূর্ণাঙ্গভাবে ভোগ করতে পারবে। মদিনার সনদের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “কোরআন সমস্ত মাখলুকাতের অধিকারের ওয়ারেন্টি দিয়েছে। ইসলামি সমাজব্যবস্থায় অন্য ধর্মের মানুষেরাও পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নাগরিক নিরাপত্তা পাবে।”
জামায়াত আমির ইমামদের উদ্দেশে বলেন, “আপনাদের দাবিগুলো খুব ছোট পরিসরে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। মসজিদ কমিটির গণ্ডি পেরিয়ে আপনাদের সমাজের দায়িত্ব নিতে হবে। যেদিন আমাদের ইমামরা সমাজেরও ইমাম হবেন, সেদিনই আমরা সত্যিকারের মুক্তি পাব।”
তিনি তাঁর এই বক্তব্যকে কারও বিরুদ্ধে নয় বরং ঈমানের পক্ষে অবস্থান হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ইমামদের নেতৃত্বে একটি সোনালী সমাজ গড়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা আজকেও আপনাদের পেছনে আছি, কালকেও থাকব। আমাদের হাশরও যেন আপনাদের সাথেই হয়, আল্লাহর কাছে সেই দোয়া করি।”
Analysis | Habibur Rahman

