বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্র আবারও অস্থির। একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েল–এর মধ্যে সরাসরি সামরিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে, অন্যদিকে দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সীমান্ত পরিস্থিতি আবারও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে।
এই দুই অঞ্চলের উত্তেজনা কেবল আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়—বরং তা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।
মধ্যপ্রাচ্য: সরাসরি মুখোমুখি সংঘাতের আশঙ্কা
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামরিক বৈরিতা নতুন করে উন্মুক্ত রূপ নিচ্ছে। ইসরায়েলের দাবি অনুযায়ী, ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে ইরান বলছে, এটি ছিল প্রতিরক্ষামূলক জবাব এবং পূর্ববর্তী হামলার প্রতিক্রিয়া।
পরিস্থিতি এখন এমন পর্যায়ে যে, পাল্টাপাল্টি হামলা যে কোনো সময় পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।
এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—যুক্তরাষ্ট্র–এর ভূমিকা। যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র। ফলে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বা আরও তীব্র হলে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো সরাসরি জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উত্তেজনা যদি নিয়ন্ত্রণে না আসে, তাহলে তা গোটা মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে, যার প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও সামরিক ভারসাম্যে।
দক্ষিণ এশিয়া: সীমান্ত উত্তেজনার নতুন অধ্যায়
দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরেই উত্তপ্ত। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান আফগান ভূখণ্ডে বিমান হামলা চালিয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। পাকিস্তানের দাবি—সীমান্ত পেরিয়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার জবাব হিসেবেই এই পদক্ষেপ।
অন্যদিকে আফগানিস্তান হতাহতের অভিযোগ তুলে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।
এই উত্তেজনা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও নাজুক করে তুলেছে। সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন এবং পাল্টা হুঁশিয়ারি পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলছে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
এই দুই অঞ্চলের সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিকে নাড়িয়ে দিতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের অনিশ্চয়তা শেয়ারবাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
স্বর্ণের মতো নিরাপদ সম্পদের চাহিদা বাড়তে পারে।
যুদ্ধ দীর্ঘ হলে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটতে পারে, যার ফলে নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে পারে।
আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য এটি বিশেষ উদ্বেগের বিষয়।
সামনে কী?
বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এই সংঘাত কি কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে?
বিশ্বনেতারা শান্তি ও সংলাপের আহ্বান জানালেও মাঠের বাস্তবতা এখনো অনিশ্চিত।
যদি উত্তেজনা আরও বাড়ে, তাহলে তা আঞ্চলিক যুদ্ধ থেকে আন্তর্জাতিক সংকটে রূপ নিতে পারে। আর যদি কূটনৈতিক উদ্যোগ সফল হয়, তাহলে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই সংঘাত প্রমাণ করছে—বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা কতটা ভঙ্গুর।
যুদ্ধের আগুন কেবল সীমান্তে সীমাবদ্ধ থাকে না; তার প্রভাব পড়ে অর্থনীতি, রাজনীতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনে।
এখন বিশ্ব তাকিয়ে আছে—বন্দুকের শব্দ থামবে, নাকি আরও তীব্র হবে?