.
আন্তর্জাতিক

মধ্যপ্রাচ্যের টালমাটাল পরিস্থিতি: ইসরায়েল-জার্মানির নতুন নিরাপত্তা চুক্তির নেপথ্যে ইরানের প্রভাব

Email :3

১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৫শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি দুপুর ১:৪৪ বৃহস্পতিবার শীতকাল

এক নাটকীয় কূটনৈতিক পটপরিবর্তনে, গতকাল রোববার জেরুজালেমে ইসরায়েল ও জার্মানির মধ্যে একটি নিরাপত্তা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেক্সান্ডার ডোবরিন্ট এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী দপ্তর থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিশেষত ‘ইরান ও তার মিত্রদের সৃষ্ট হুমকি’ মোকাবিলায় এই চুক্তি অপরিহার্য। ইসরায়েলের দাবি, ইরান ও তার সহযোগী শক্তিগুলো কেবল ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্যই নয়, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্যও গুরুতর হুমকি।

জার্মানির নীতির আকস্মিক পরিবর্তন

এই চুক্তি বিশেষত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ গত বছর আগস্টে জার্মানি ইসরায়েলে সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানি স্থগিত করেছিল। সে সময় জার্মানির যুক্তি ছিল, তাদের রপ্তানি করা অস্ত্র ইসরায়েল গাজা যুদ্ধে ব্যবহার করতে পারে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের পর জার্মানিই ইসরায়েলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ। এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে জার্মানির এই নীতিগত পরিবর্তন আঞ্চলিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ইরানকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণার আহ্বান

এই চুক্তি স্বাক্ষরের দিনেই ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সার জার্মান মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নকে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসকে (আইআরজিসি) ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে জার্মানি এ অবস্থান নিয়েছে, এবং আজ এই বিষয়টির গুরুত্ব সবার কাছে স্পষ্ট।” এটি ইরানের বিরুদ্ধে একটি সমন্বিত আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার পারদ

ইসরায়েল-জার্মানির এই প্রতিরক্ষা চুক্তি এমন এক সময়ে ঘটল যখন ইরানজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত। গত বছর ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দেশটির রাজধানী তেহরানসহ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে ইরানে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছেন বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, তেহরান ওয়াশিংটনকে ‘ভুল হিসাব-নিকাশ’ না করার পরামর্শ দিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে কোনো সামরিক হামলা চালানো হলে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোয় পাল্টা আঘাত হানা হবে। এই পাল্টা হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েলের জন্য জার্মানির নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।

ইসরায়েল-জার্মানির এই নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-বিরোধী জোটের একটি সুস্পষ্ট বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি কেবল নিরাপত্তা সহযোগিতা নয়, বরং ইরানের ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক প্রভাব মোকাবিলায় পশ্চিমা দেশগুলোর দৃঢ় অবস্থানের প্রতিফলন। তবে, এই পদক্ষেপ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় কী ধরনের প্রভাব ফেলবে এবং চলমান উত্তেজনাকে কোন দিকে চালিত করবে, তা সময়-ই বলে দেবে। Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts