.
অন্যান্য

ভোট একটা নাকি দুইটা? জাতীয় নির্বাচনের সাথে গণভোটের নতুন জট, ইসির চূড়ান্ত প্রস্তুতি!

Email :81

১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি বিকাল ৩:৪৬ সোমবার বসন্তকাল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ট্রেন যখন ফেব্রুয়ারির গন্তব্যে প্রায় পৌঁছে গেছে, ঠিক তখনই সমান্তরাল এক লাইনে অনিশ্চয়তার লাল সংকেত হয়ে জ্বলছে ‘গণভোট’। নির্বাচন কমিশন (ইসি) এক হাতে যখন জাতীয় নির্বাচনের প্রায় সমস্ত প্রস্তুতি গুছিয়ে এনেছে, তখন অন্য হাতে গণভোট নিয়ে সরকারের নির্দেশনার অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে তাদের। ফলে বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে একটি নিশ্চিত আয়োজনের পাশাপাশি একটি সম্ভাব্য কিন্তু অনিশ্চিত ভোটের ছায়া পুরো প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলেছে।

নির্বাচন কমিশন তাদের কাজ প্রায় শেষ করে এনেছে। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তফসিল ঘোষণার লক্ষ্য নিয়ে ১২ কোটি ৭৬ লাখ ভোটারের তালিকা চূড়ান্ত করা, ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ, সীমানা পুনর্নির্ধারণ এবং প্রথমবারের মতো প্রবাসীদের জন্য পোস্টাল ব্যালটের মতো যুগান্তকারী পদক্ষেপ—সবই এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। নির্বাচনী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে নতুন দলের নিবন্ধন পর্যন্ত, সবকিছু চলছে ঘড়ির কাঁটা ধরে।

কিন্তু এই মসৃণ প্রস্তুতির পথেই বড় একটি বাঁক হয়ে দাঁড়িয়েছে গণভোটের বিষয়টি। ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই গণভোটের সুপারিশ এলেও, এটি কি নির্বাচনের আগে হবে, নাকি নির্বাচনের দিনই অনুষ্ঠিত হবে—তা নিয়ে সরকার এখনো নীরব। আর এই নীরবতাই জন্ম দিয়েছে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের। বিএনপি যেখানে সংসদ নির্বাচনের সাথেই গণভোট চায়, সেখানে জামায়াতে ইসলামীর দাবি নির্বাচনের আগেই তা সম্পন্ন করার।

এই রাজনৈতিক টানাপোড়েন নির্বাচন কমিশনকে এক উভয় সংকটে ফেলেছে। বিষয়টি শুধু একটি বাড়তি ভোটের আয়োজন নয়, বরং এটি পুরো নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার জন্য এক কৌশলগত চ্যালেঞ্জ। ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, যদি দুটি ভোট একদিনে হয়, তবে ৪২ হাজার কেন্দ্রে ভোটকক্ষের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ করতে হতে পারে। কারণ, দুটি ব্যালটে ভোট দিতে একজন ভোটারের বেশি সময় লাগবে, যা দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি করবে। এর জন্য প্রয়োজন হবে অতিরিক্ত ব্যালট বাক্স, বাড়তি ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা এবং আনুষঙ্গিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যা একটি বড় ধরনের লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ। আর যদি গণভোট আগে হয়, তবে কয়েকশ কোটি টাকার বাড়তি খরচ তো আছেই, সাথে পুরো নির্বাচনী কর্মী বাহিনীকে দুইবার মাঠে নামাতে হবে।

আপাতদৃষ্টিতে, নির্বাচন কমিশন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি রাখছে না। কিন্তু পর্দার আড়ালে, গণভোটের এই অমীমাংসিত প্রশ্নটি তাদের প্রতিটি পরিকল্পনাকে একটি “যদি” এবং “কিন্তু”-এর উপর দাঁড় করিয়ে রেখেছে।

শেষ পর্যন্ত, ফেব্রুয়ারির নির্বাচন প্রায় নিশ্চিত ধরে এগোলেও, গণভোটের এই ‘অদৃশ্য দেয়াল’ পুরো সময়রেখাকে যেকোনো মুহূর্তে বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। তাই প্রশ্ন এখন একটাই—নির্বাচন কমিশন কি দুটি ভিন্ন গতির ট্রেনকে একই গন্তব্যে সুষ্ঠুভাবে পৌঁছে দিতে পারবে, নাকি এই দুইয়ের চাপে লাইনচ্যুত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে? উত্তরটি এখন কেবল সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts