৫ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ১৯শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৯শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি রাত ৪:৩৯ বৃহস্পতিবার বসন্তকাল
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও এই আসনের মনোনীত প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসতেই একটি পক্ষ কালো টাকার পাহাড় ও খাবার বিতরণের মাধ্যমে ভোটারদের কেনার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বিশেষ করে দিনমজুর, দরিদ্র মানুষ ও সংখ্যালঘু নারীদের টার্গেট করে কোথাও কোথাও বিরিয়ানির প্যাকেট এবং ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত নগদ অর্থ বিতরণ করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বেলা সাড়ে ১১টায় খুলনা প্রেসক্লাবের লিয়াকত আলী মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন। এ সময় তিনি নির্বাচনের বর্তমান পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশের পাশাপাশি নিজের নির্বাচনী ইশতেহারও ঘোষণা করেন।

কালো টাকা ও পেশিশক্তির মহড়া
সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আশ্বাস দিলেও খুলনার মাঠপর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। নির্বাচনের মাত্র এক সপ্তাহ বাকি থাকলেও সন্ত্রাস, ভয়ভীতি এবং কালো টাকার ছড়াছড়ি থামছে না। তিনি দাবি করেন, একটি বিশেষ মহল পরিকল্পিতভাবে ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও উপজেলাভিত্তিক কোটা নির্ধারণ করে বাড়ি বাড়ি অবৈধ টাকা পৌঁছে দিচ্ছে, যা নির্বাচনী আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন।
নারী কর্মী ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা
জামায়াত নেতা অভিযোগ করেন, প্রচারণার মাঠে তাদের নারী কর্মীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি বলেন, “দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রচারণায় গেলে নারী কর্মীদের বোরকা ও মুখের কাপড় টেনে খুলে ফেলার মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটছে। প্রতিবাদ করলে তাদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হচ্ছে, এমনকি অন্তঃসত্ত্বা নারীরাও এই সহিংসতা থেকে রেহাই পাচ্ছেন না।”
সংখ্যালঘু ভোটারদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে ‘ভয়াবহ পরিণতি’ ভোগ করতে হবে বলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কিছু এলাকায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সাবেক জনপ্রতিনিধিদের জোর করে বাড়ি থেকে তুলে এনে প্রতিপক্ষের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে।
সাইবার হামলা ও ভারতীয় ভাইরাসের অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে সাইবার নিরাপত্তার বিষয়টিও জোরালোভাবে তুলে ধরেন গোলাম পরওয়ার। তিনি দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের পর তার নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টও হ্যাক করা হয়েছে।
চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের সাইবার টিমের তদন্তে উঠে এসেছে যে, একটি সরকারি দপ্তরের একজন কর্মকর্তার ই-মেইল ব্যবহার করে ভারতীয় উৎসের ভাইরাস দিয়ে এই হ্যাকিং কার্যক্রম চালানো হয়েছে।” এ ঘটনায় সাইবার আইনে মামলা দায়েরের পর ডিবি পুলিশ ল্যাপটপসহ ওই কর্মকর্তাকে আটক করেছে বলে জানান তিনি। যদিও ওই কর্মকর্তাকে ছাড়িয়ে নিতে উচ্চপর্যায় থেকে চাপ প্রয়োগের অভিযোগও করেন এই জামায়াত নেতা।
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ও প্রশাসনের ভূমিকা
খুলনা-৫ আসনের ১৫০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে অন্তত ৫০টি কেন্দ্রকে ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন গোলাম পরওয়ার। তার আশঙ্কা, এসব কেন্দ্রে ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, কেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই এবং আগেই ব্যালট বাক্সে ভরে রাখার মতো ঘটনা ঘটতে পারে।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিটি থানায় সন্ত্রাসীদের তালিকা থাকার পরেও পুলিশ অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার বা চিহ্নিত অপরাধীদের গ্রেপ্তারে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিচ্ছে না। ফুলতলা ও ডুমুরিয়া এলাকায় তার একাধিক নির্বাচনী সভা ভাঙচুর ও পণ্ড করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
দাবি ও উপস্থিত নেতৃবৃন্দ
সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার অবিলম্বে কালো টাকার ছড়াছড়ি বন্ধ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। তিনি ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা জামায়াতের আমির এমরান হুসাইন, সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মইনুল ইসলাম, মিয়া গোলাম কুদ্দুস, গওসুল আজম এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক নেতৃবৃন্দ।
Analysis | Habibur Rahman