১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ৩রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৩ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি বিকাল ৪:৩৯ মঙ্গলবার বসন্তকাল
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা যখন সময়ের ব্যাপার মাত্র, ঠিক তখনই ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে নিজেদের শঙ্কার কথা জানাল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘনিয়ে এলেও এখনো রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য সবার সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরি হয়নি।

সোমবার (৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া মো. গোলাম পরওয়ার।
প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও অস্ত্র উদ্ধার নিয়ে প্রশ্ন
ইসির সঙ্গে বৈঠকে মাঠ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরেছে জামায়াত। বৈঠক শেষে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমরা প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে কথা বলেছি। নির্বাচনের দায়িত্বে থাকবেন এমন অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার নিরপেক্ষতা এখনো প্রশ্নবিদ্ধ। আমরা কমিশনকে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ দিয়েছি।’
এ ছাড়া নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের যে অভিযান চলছে, তা নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেছে দলটি। জামায়াত নেতার মতে, বর্তমান অস্ত্র উদ্ধার অভিযান খুব একটা কার্যকর বা দৃশ্যমান মনে হচ্ছে না, যা সুষ্ঠু ভোটের পথে অন্তরায় হতে পারে।
রমজানের আগেই ভোট চায় জামায়াত
অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ইসি থেকেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। এ বিষয়ে গোলাম পরওয়ার জানান, জাতি নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখের অপেক্ষায় আছে। আসন্ন রমজানের আগেই নির্বাচন সম্পন্ন করার যে প্রতিশ্রুতি ছিল, তা বাস্তবায়নে দ্রুত তফসিল ঘোষণার তাগিদ দিয়েছে জামায়াত। ইসি তাদের আশ্বস্ত করেছে যে, সপ্তাহখানেকের মধ্যেই তফসিল ঘোষণা করা হবে।
একই দিনে গণভোট ও নির্বাচনে আপত্তি
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি একই দিনে গণভোট আয়োজনের যে পরিকল্পনা ইসি করছে, তাতেও আপত্তি জানিয়েছে জামায়াত। দলটি মনে করে, দুটি ভিন্নধর্মী নির্বাচন একই দিনে হওয়া উচিত নয়। এ দাবি আদায়ে সমমনা আরও সাতটি ইসলামি দলকে সঙ্গে নিয়ে যুগপৎ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে তারা।
জামায়াতের প্রতিনিধিদল মনে করে, কেবল তফসিল ঘোষণা করলেই হবে না, বরং সব দলের আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে ইসিকে আরও কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
Analysis | Habibur Rahman