১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি সন্ধ্যা ৬:৪০ বুধবার বসন্তকাল
ভেনেজুয়েলার প্রভাবশালী বিরোধী নেত্রী কোরিনা মাচাদো এক আকস্মিক ইঙ্গিতে জানিয়েছেন যে, তিনি ২০২৫ সালে প্রাপ্ত নিজের সম্ভাব্য নোবেল শান্তি পুরস্কারটি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হস্তান্তর করতে পারেন। তবে তার এই প্রস্তাবনা নরওয়েজিয়ান নোবেল ইনস্টিটিউটের কঠোর বিধিনিষেধের কারণে শুরুতেই বাতিল হয়ে গেছে। সংস্থাটি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নোবেল পুরস্কার হস্তান্তর, ভাগাভাগি বা প্রত্যাহার করার কোনো সুযোগ নেই, এবং তাদের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত ও স্থায়ী।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নরওয়েজিয়ান নোবেল ইনস্টিটিউট, যারা শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে, এক বিবৃতিতে নোবেল ফাউন্ডেশনের সুনির্দিষ্ট বিধিবিধানের কথা উল্লেখ করে বলেছে যে, “নোবেল পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত ও স্থায়ী। এসব সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের কোনো সুযোগ নেই।” সংস্থাটি আরও জোর দিয়ে বলেছে যে, একবার পুরস্কার ঘোষণার পর বিজয়ীদের কোনো বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড নিয়ে সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো মন্তব্য করে না।
গত শুক্রবার নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি ও নরওয়েজিয়ান নোবেল ইনস্টিটিউট যৌথভাবে এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে, যেখানে বলা হয়েছে, “একবার নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হলে তা প্রত্যাহার করা যায় না, ভাগাভাগি করা যায় না বা অন্য কারও কাছে হস্তান্তর করা যায় না। এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত এবং চিরকালের জন্য বহাল থাকে।”
মাচাদোর কৃতজ্ঞতা ও ট্রাম্পের আগ্রহ
মাচাদোর এই ইঙ্গিত আসে গত সোমবার ফক্স নিউজের সাংবাদিক শন হ্যানিটিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে। সেখানে তিনি বলেন, যদি ট্রাম্পকে এই শান্তি পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়, তবে তা হবে ভেনেজুয়েলার জনগণের পক্ষ থেকে তাকে কৃতজ্ঞতা জানানো। তার কৃতজ্ঞতার কারণ হিসেবে তিনি ইঙ্গিত দেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিষয়ে ট্রাম্পের ভূমিকা, যা তার ভাষায় ‘মাদুরোকে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে তুলে নিয়ে যাওয়ার’ প্রচেষ্টার সঙ্গে সম্পর্কিত। যদিও এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য বা মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার কোনো বাস্তব ঘটনা নিশ্চিত হওয়া যায়নি, মাচাদো তার সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের প্রতি এই বিশেষ সমর্থনের কথা জানান।
হ্যানিটি যখন তাকে সরাসরি জিজ্ঞেস করেন যে তিনি ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন কিনা, মাচাদো জানান, “এখনো এমন কিছু ঘটেনি।”
দীর্ঘদিন ধরেই সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজের কূটনৈতিক সাফল্যগুলোর জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার জেতার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছেন। তিনি নিজেই বলেছেন, ওয়াশিংটনে আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে যদি মাচাদো তাকে তার পুরস্কারটি দিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন, তবে তিনি তা “গর্বের সঙ্গে গ্রহণ করবেন”। এটি তার নোবেল পুরস্কারের প্রতি গভীর আকাঙ্ক্ষাকেই নির্দেশ করে।
ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
কোরিনা মাচাদো ভেনেজুয়েলার একজন পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং জাতীয় পরিষদের সাবেক সদস্য। ২০২৪ সালের ভেনেজুয়েলার সাধারণ নির্বাচনে মাদুরো-সমর্থিত কর্তৃপক্ষ তাকে প্রার্থী হতে দেয়নি। এরপর তিনি অন্য একজন প্রার্থীকে সমর্থন দেন, যাকে ভোটে জয়ী হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। তবে নির্বাচনে মাদুরো নিজেকে বিজয়ী দাবি করেন, যদিও স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের ব্যালট নিরীক্ষায় সরকারি ফলাফলে গুরুতর অনিয়ম দেখা গেছে। এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মাচাদোর মন্তব্য আরও তাৎপর্যপূর্ণ।
এই ঘটনা নোবেল পুরস্কারের মর্যাদা, এর বিধিবিধান এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এর প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে যেমন নোবেল ইনস্টিটিউট তাদের পুরস্কারের পবিত্রতা ও অবিচ্ছেদ্যতা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর, অন্যদিকে মাচাদোর মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে এই পুরস্কারের প্রতীকী মূল্য ব্যবহার করতে চাইছেন।
Analysis | Habibur Rahman