.
আন্তর্জাতিক

ভূপৃষ্ঠে কূটনৈতিক ‘যুদ্ধ’, অথচ অন্তরীক্ষে অটুট বন্ধুত্ব রুশ যানে চড়ে পৃথিবীতে ফিরলেন নাসার জনি কিম

Email :81

১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি দুপুর ২:৪৭ বুধবার বসন্তকাল

 ইউক্রেন সংকট ও পাল্টাপাল্টি নিষেধাজ্ঞার জেরে ওয়াশিংটন ও মস্কোর সম্পর্ক যখন তলানিতে, ঠিক তখনই মহাকাশ থেকে ভেসে এল সম্প্রীতির ভিন্ন এক বার্তা। ভূ-রাজনীতির সব সমীকরণ উপেক্ষা করে রাশিয়ার মহাকাশযান ‘সয়ুজ এমএস–২৭’–এ চড়ে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরলেন নাসার নভোচারী জনি কিম। তার সঙ্গে ছিলেন দুই রুশ কসমোনট সের্গেই রিজিকভ এবং আলেক্সেই জুব্রিৎসকি।

সম্প্রতি কাজাখস্তানের ঝেজকাজগান অঞ্চলের বিস্তীর্ণ প্রান্তরে প্যারাসুটের সাহায্যে সফলভাবে অবতরণ করে এই তিন নভোচারীবাহী ক্যাপসুলটি। এই অবতরণ শুধু একটি মহাকাশ মিশনের সমাপ্তি নয়, বরং এটি প্রমাণ করল—পৃথিবীর মানচিত্রে দুই পরাশক্তির মধ্যে যতই উত্তেজনা থাকুক না কেন, আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস) এখনো সহযোগিতার এক বিরল ‘মরূদ্যান’ হয়ে টিকে আছে।
বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ কোনো প্রজেক্ট কল্পনা করা কঠিন হলেও, আইএসএস বা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন কার্যত এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ। অবতরণের পর নাসার জনি কিম এবং রুশ কসমোনটদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করা এবং একে অপরের ওপর নির্ভরতা সেই বার্তাই দিচ্ছে। মিশনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত—লঞ্চিং, গবেষণা এবং পৃথিবীতে ফেরা—পুরোটাই ছিল দুই দেশের মহাকাশ সংস্থার নিখুঁত সমন্বয়ের ফসল।
বিশ্লেষকদের মতে, মহাকাশে এই ‘বন্ধুত্ব’ যতটা না আবেগের, তার চেয়ে বেশি প্রয়োজনের। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের গঠনশৈলী এমনভাবে তৈরি যে, একা কোনো দেশের পক্ষে এটি পরিচালনা করা অসম্ভব। স্টেশনের মার্কিন অংশটি বিদ্যুৎ ও লাইফ-সাপোর্ট সিস্টেম (জীবনরক্ষা ব্যবস্থা) নিয়ন্ত্রণ করে, অন্যদিকে রুশ অংশটি নিয়ন্ত্রণ করে স্টেশনের অরবিট বা কক্ষপথ এবং প্রপালশন বা গতিপথ। অনেকটা দড়ি টানাটানির উল্টো চিত্র—এখানে দড়ি ছেড়ে দিলে দুজনেই বিপদগ্রস্ত হবে। তাই রাজনৈতিক ‘নতুন স্নায়ুযুদ্ধ’ চললেও মহাকাশে তারা একে অপরের পরিপূরক হতে বাধ্য।
২০২২ সালে মার্ক ভ্যান্ডে হাই-এর প্রত্যাবর্তনের পর থেকেই জল্পনা ছিল যে, রাশিয়া হয়তো মহাকাশ সহযোগিতাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু সয়ুজ এমএস–২৭ মিশনে জনি কিমের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন সেই শঙ্কাকে ভুল প্রমাণ করেছে। মহাকাশ গবেষণা ও নভোচারীদের নিরাপত্তার স্বার্থে রাশিয়া তাদের পেশাদারিত্ব বজায় রেখেছে।

ঝেজকাজগানের মাটিতে যখন রুশ ও মার্কিন উদ্ধারকারী দল যৌথভাবে নভোচারীদের ক্যাপসুল থেকে বের করে আনছিল, তখন তা শুধুই একটি বৈজ্ঞানিক সাফল্য ছিল না; বরং তা ছিল এই বার্তা যে—বিজ্ঞানের সীমানায় রাজনীতির বিভেদ রেখা এখনো পুরোপুরি থাবা বসাতে পারেনি।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts