.
আন্তর্জাতিক

ভারত-পাকিস্তান ‘পারমাণবিক যুদ্ধ’ থামিয়ে ১ কোটি প্রাণ বাঁচিয়েছেন—ফ্লোরিডায় ফের দাবি ট্রাম্পের

Email :12

১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৫শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি সকাল ১০:৫৪ বৃহস্পতিবার শীতকাল

দক্ষিণ এশিয়ার দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী—ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার চরম উত্তেজনা প্রশমনে আবারও নিজের কৃতিত্ব দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, তাঁর হস্তক্ষেপের কারণেই দুই দেশের মধ্যে আসন্ন একটি পারমাণবিক যুদ্ধ এড়ানো সম্ভব হয়েছে। শুধু তাই নয়, এই মধ্যস্থতার ফলে অন্তত এক কোটি মানুষের জীবন রক্ষা পেয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। তবে ট্রাম্পের এই দাবি বরাবরের মতোই অস্বীকার করেছে ভারত।

গত সোমবার ফ্লোরিডার মার-এ-লাগোতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাঁর প্রশাসনের নবনিযুক্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, নৌমন্ত্রী জন ফেলান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

‘১ কোটি মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছি’
নিজ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পাশে রেখে ট্রাম্প দাবি করেন, ভারত ও পাকিস্তানের সংঘাত যখন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছিল, তখন ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতা পরিস্থিতি শান্ত করে। পাকিস্তানের নেতৃত্বের বরাত দিয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমরা ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য পারমাণবিক বিপর্যয় থামিয়েছি। পাকিস্তানের অত্যন্ত সম্মানিত একজন জেনারেল—যিনি ফিল্ড মার্শাল—এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, আপনি ১ কোটি মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছেন’। হয়তো বাস্তবে সংখ্যাটা এর চেয়েও বেশি।”

যুদ্ধের ভয়াবহতা বর্ণনা করতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট উল্লেখ করেন, সেই সময় পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল যে আটটি বিমান ভূপাতিত করা হয়। তিনি বলেন, “যুদ্ধটি একটি ভয়াবহ রূপ নিতে শুরু করেছিল। কিন্তু আমরা তা সমাধান করেছি। একইভাবে আমরা প্রায় সব যুদ্ধেরই সমাধান করেছি। বর্তমানে কেবল রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতটিই আমি এখনো সমাধান করতে পারিনি।”

সংঘাতের প্রেক্ষাপট ও ট্রাম্পের দাবি
ট্রাম্পের এই দাবির নেপথ্যে রয়েছে গত এপ্রিল ও মে মাসে দুই দেশের মধ্যে তৈরি হওয়া যুদ্ধাবস্থা। গত ২২ এপ্রিল ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগামে সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় ২৬ জন নিহত হন। ভারত এই হামলার জন্য সরাসরি পাকিস্তানকে দায়ী করলেও ইসলামাবাদ তা প্রত্যাখ্যান করে।

উত্তেজনার জেরে গত ৭ মে ভারত পাকিস্তানের ভূখণ্ডে হামলা চালায়। জবাবে পাকিস্তানও পাল্টা হামলা শুরু করে। টানা চার দিন ধরে দুই দেশের মধ্যে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চলতে থাকে, যা পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করে।

ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, ওয়াশিংটনের দীর্ঘ আলোচনার পর গত ১০ মে দুই দেশ ‘পূর্ণাঙ্গ ও তাৎক্ষণিক’ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। সেদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প নিজেই এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিলেন। ওই ঘটনার পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬০ বার তিনি ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা প্রশমনে নিজের সাফল্যের কথা জনসমক্ষে তুলে ধরেছেন।

ভারতের অবস্থান
যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার নিজেকে এই ‘শান্তি প্রক্রিয়ার’ নায়ক হিসেবে উপস্থাপন করছেন, তথাপি ভারত সরকার এই দাবি শুরু থেকেই প্রত্যাখ্যান করে আসছে। নয়াদিল্লির দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অবস্থান হলো, পাকিস্তানের সঙ্গে যেকোনো বিরোধ দ্বিপাক্ষিক এবং এখানে তৃতীয় কোনো পক্ষের হস্তক্ষেপ বা মধ্যস্থতার কোনো সুযোগ নেই। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পরও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের এই অবস্থানেই অটল রয়েছে।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts