১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৫শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি ভোর ৫:৫৬ বৃহস্পতিবার শীতকাল
পার্থের পর ব্রিসবেনেও ভাগ্য বদলানো না ইংল্যান্ডের। দিবা-রাত্রির টেস্টে অজি পেসারদের তোপের মুখে অসহায় আত্মসমর্পণ করে সফরকারীরা। মাত্র ৬৫ রানের মামুলি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৮ উইকেটের বিশাল জয়ে অ্যাশেজ সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্টিভ স্মিথের দল।

এএফপি
চতুর্থ দিনের শেষ বিকেলে অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ যখন ছক্কা মেরে দলের জয় নিশ্চিত করেন, তখন গ্যালারিতে উৎসবের আমেজ। কিন্তু এই জয়ের মূল ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন মাইকেল নেসার। অভিজ্ঞ স্পিনার নাথান লায়নকে বসিয়ে ঘরের মাঠে নেসারকে খেলানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। তবে বল হাতে তার মোক্ষম জবাব দিয়েছেন এই পেসার। দ্বিতীয় ইনিংসে ৪২ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ইংলিশ ব্যাটিং লাইনআপ একাই গুঁড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।
ম্যাচের চতুর্থ দিনের শুরুটা অবশ্য ইংল্যান্ডের জন্য আশাজাগানিয়া ছিল। বেন স্টোকস ও উইল জ্যাকস জুটি প্রথম সেশনটি নির্বিঘ্নে কাটিয়ে দেন। ২২১ বলে ৯৬ রানের জুটিতে মনে হচ্ছিল ইংল্যান্ড হয়তো লড়াইয়ে ফিরবে। কিন্তু মাইকেল নেসারের বলে স্লিপে স্টিভ স্মিথের অবিশ্বাস্য এক ক্যাচে ৪১ রানে জ্যাকস ফিরতেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে ইংলিশ প্রতিরোধ। এরপর ফিফটি করা স্টোকসকেও ফিরতে হয় অ্যালেক্স ক্যারির দুর্দান্ত ক্যাচের শিকার হয়ে। শেষ ৪ উইকেট মাত্র ১৭ রানে হারিয়ে ২৪১ রানেই গুটিয়ে যায় ইংল্যান্ড।
ম্যাচে দুই দলের পার্থক্য গড়ে দিয়েছে মূলত ফিল্ডিং। ইংল্যান্ড যেখানে প্রথম ইনিংসে ৫টি ক্যাচ ফেলে নিজেদের পায়ে কুড়াল মেরেছে, সেখানে অস্ট্রেলিয়া ছিল দুর্দান্ত। উইকেটের পেছনে অ্যালেক্স ক্যারির ক্ষিপ্রতা এবং স্লিপে স্মিথের ক্যাচগুলোই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
এর আগে অস্ট্রেলিয়া তাদের প্রথম ইনিংসে ৫১১ রানের পাহাড়সম স্কোর গড়ে। মিচেল স্টার্ক (৭৭), জ্যাক ওয়েদারাল্ড (৭২) ও মারনাস লাবুশেনসহ ৫ জন ব্যাটার ফিফটি করেন। বল হাতে এবং ব্যাট হাতে দুর্দান্ত পারফর্ম করে পার্থের পর ব্রিসবেনেও ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন মিচেল স্টার্ক।
ইতিহাস বলছে, পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর সিরিজ হারের নজির কেবল একটিই (১৯৩৬-৩৭ সালে ইংল্যান্ড)। তাই ব্রিসবেনের এই জয়ে কার্যত সিরিজ জয়ের পথে এক ধাপ এগিয়ে গেল অস্ট্রেলিয়া।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ইংল্যান্ড: ৩৩৪ ও ২৪১ (স্টোকস ৫০, জ্যাকস ৪১; নেসার ৫/৪২, বোল্যান্ড ২/৪৭)।
অস্ট্রেলিয়া: ৫১১ ও ৬৯/২ (স্মিথ ২৩*, ওয়েদারাল্ড ১৭*; আটকিনসন ২/৪৭)।
ফল: অস্ট্রেলিয়া ৮ উইকেটে জয়ী।
সিরিজ: অস্ট্রেলিয়া ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে।
ম্যাচসেরা: মিচেল স্টার্ক।
Analysis | Habibur Rahman

