৩০শে পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ১৪ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৪শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি রাত ১১:১৯ বুধবার শীতকাল
সারাদেশে ২৩৭টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে নির্বাচনী উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে বিএনপি। কিন্তু এই দীর্ঘ তালিকার চেয়েও বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে একটি শূন্যস্থান—ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২। দলের অন্যতম জনপ্রিয় মনোনয়নপ্রত্যাশী রুমিন ফারহানার নাম না থাকায় এই আসনটি এখন পরিণত হয়েছে এক রাজনৈতিক ধাঁধায়, যার সমাধান না মিললে তীব্র অসন্তোষ বিদ্রোহে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।
সোমবার বিকেলে বিএনপির প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর থেকেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের রাজনৈতিক আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে ওঠে। বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে প্রার্থী হিসেবে অ্যাডভোকেট রুমিন ফারহানার নাম প্রায় নিশ্চিত ধরে নিয়েছিলেন তাঁর অনুসারীরা। কিন্তু তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, আসনটি ফাঁকা রাখা হয়েছে, যা স্থানীয় রাজনীতিতে এক আকস্মিক বজ্রপাতের মতোই আঘাত হেনেছে। গুঞ্জন উঠেছে, আসনটি বিশ দলীয় জোটের কোনো শরিক দলের জন্য সংরক্ষিত রাখা হতে পারে। এই সম্ভাবনা সামনে আসতেই হতাশা ও ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটেছে রুমিন ফারহানার অনুসারীদের মধ্যে। তাদের ভাষ্যমতে, ২০১৭ সাল থেকে রুমিন ফারহানা এই আসনের মাটি ও মানুষের সাথে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে উপনির্বাচনে অংশ নেওয়া আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়ে তিনি নিজের আনুগত্য ও নেতৃত্বের প্রমাণ দিয়েছেন।
সরাইল উপজেলা বিএনপির এক শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “রুমিন ফারহানা শুধু একজন নেত্রী নন, তিনি এখানকার মানুষের আবেগের নাম। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জোটকে আসনটি ছেড়ে দেওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতা আমাদের আছে। এবার যদি তাঁর মতো জনপ্রিয় প্রার্থীকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হয়, তবে কর্মীরা তা কোনোভাবেই মেনে নেবে না। প্রয়োজনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও রুমিন ফারহানাই জিতবেন, জোটের প্রার্থীর জামানত রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।”
এই জটিল পরিস্থিতিতে অ্যাডভোকেট রুমিন ফারহানা নিজে সংযত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমার নাম না দেখে শত শত কর্মী-সমর্থক কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। আমি তাদের আবেগ বুঝি। তবে আমি দলের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিশ্চয়ই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্তটিই নেবেন।” তাঁর এই বক্তব্যে দলের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ পেলেও, অনুসারীদের আবেগও উপেক্ষিত হয়নি।
এই আসনের সাথে রুমিন ফারহানার একটি পারিবারিক যোগসূত্রও রয়েছে। তাঁর বাবা, প্রখ্যাত ভাষাসংগ্রামী অলি আহাদ ১৯৭৩ সালে এই আসন থেকেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, যে নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক আজও অমীমাংসিত।
ফলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনটি এখন বিএনপির জন্য এক অগ্নিপরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। একদিকে জোটের প্রতি দায়বদ্ধতা, অন্যদিকে দলের নিবেদিতপ্রাণ নেত্রী ও তাঁর বিপুল সংখ্যক অনুসারীর চাপ—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা দলের হাইকমান্ডের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। রুমিন ফারহানার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং এই আসনের চূড়ান্ত মনোনয়ন কোন দিকে মোড় নেবে, তার জন্য এখন অপেক্ষা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।
Analysis | Habibur Rahman


