বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৬ নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটেছে। শেষ পর্যন্ত কবি মোহন রায়হান–কেই পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোছা. আফসানা মিমির সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
কীভাবে শুরু হলো বিতর্ক?
কবি মোহন রায়হানের নাম ঘোষণার পরপরই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। কিছু মহল থেকে পুরস্কার প্রদানের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। অভিযোগ ওঠে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও মূল্যায়ন মানদণ্ড নিয়ে। এসব সমালোচনা দ্রুতই জনমত তৈরির পর্যায়ে পৌঁছে যায়।
পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করলে তাৎক্ষণিকভাবে পুরস্কার প্রদান স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয় মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে উত্থাপিত অভিযোগগুলো পর্যালোচনার কথা জানানো হয়। এতে স্পষ্ট হয়, সরকার বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং জনমতের প্রতি সংবেদনশীল অবস্থান নিতে চাইছে।
জরুরি বৈঠক ও পর্যালোচনা
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রণালয়ে একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বৈঠকে উত্থাপিত অভিযোগগুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা ও যাচাই করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার নথিপত্র খতিয়ে দেখা হয়। অভিযোগের বাস্তবতা, প্রাসঙ্গিকতা এবং প্রমাণ—সব দিক বিবেচনায় নেওয়া হয়। পর্যালোচনা শেষে অভিযোগগুলো পুরস্কার বাতিলের মতো গুরুতর নয় বলে মত দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিক্রমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
সবশেষে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিক্রমে কবি মোহন রায়হানকেই ২০২৬ সালের বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়। ফলে তাঁর পুরস্কার প্রাপ্তি নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার অবসান ঘটে।
এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সরকার একদিকে অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যালোচনার নজির স্থাপন করলো, অন্যদিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পূর্বঘোষণা বহাল রাখলো। বিশ্লেষকদের মতে, এটি প্রমাণ করে যে সাংস্কৃতিক পুরস্কার নিয়ে বিতর্ক নতুন কিছু নয়, তবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
সাহিত্য অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া।
সাহিত্য অঙ্গনে এই সিদ্ধান্ত মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেকেই বলছেন, অভিযোগ যাচাইয়ের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়াটা ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, ভবিষ্যতে পুরস্কার নির্বাচনের প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক হওয়া উচিত, যাতে এ ধরনের বিতর্ক এড়ানো যায়।
বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি। তাই এর প্রতিটি সিদ্ধান্তই জনমনে আলোড়ন তোলে। সব বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে এখন নজর থাকবে—পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান এবং কবি মোহন রায়হানের সাহিত্যকর্ম নতুন করে কতটা আলোচনায় আসে, সেদিকে।