১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৫শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি দুপুর ১:৫৩ বৃহস্পতিবার শীতকাল
এশিয়ান কাপের স্বপ্ন শেষ, কিন্তু ফুরায়নি প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঝাঁঝ। আগামী ১৮ই নভেম্বর, ২০২৫, ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম এক ভিন্নধর্মী ফুটবল উত্তেজনার সাক্ষী হতে চলেছে। এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের নিয়মরক্ষার ম্যাচে মাঠে নামবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ ও ভারত। রাত ৮টায় শুরু হতে যাওয়া এই ম্যাচটি কোনো দলের জন্যই পরের রাউন্ডের দরজা খুলবে না, তবে খুলে দেবে সম্মান আর শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের এক নতুন দিগন্ত।
সাধারণত এমন ম্যাচের আবেদন কমে গেলেও, বাংলাদেশ-ভারত লড়াইয়ের ক্ষেত্রে সমীকরণটা ঠিক উল্টো। এটি এমন এক ম্যাচ, যেখানে পয়েন্ট টেবিলের চেয়েও বড় হয়ে ওঠে দুই দেশের সমর্থকদের আবেগ এবং ফুটবলের গৌরব। ভারতের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক গুরপ্রীত সিং সান্ধুর কথাতেই তা স্পষ্ট, “যোগ্যতা অর্জনের সুযোগ না থাকলেও এই ম্যাচের উত্তাপ কমবে না, কারণ এটি আমাদের জন্য সবসময়ই একটি বিশেষ ম্যাচ।”
পরিসংখ্যানের খাতা ভারতের পক্ষে কথা বললেও, সাম্প্রতিক ইতিহাস দিচ্ছে ভিন্ন বার্তা। সার্বিক রেকর্ডে ভারত অনেক এগিয়ে থাকলেও, ২০০৫ সালের পর থেকে দুই দলের লড়াইয়ে সমতার সুর স্পষ্ট। এই সময়ে অনুষ্ঠিত ১১টি ম্যাচের ৬টিই ড্র হয়েছে, যা প্রমাণ করে বাংলাদেশ এখন আর সহজ প্রতিপক্ষ নয়। গত মার্চে শিলংয়ে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ ম্যাচটিও গোলশূন্য ড্র হয়েছিল, যা ঢাকার মাঠে নামার আগে জামাল ভূঁইয়াদের বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে।
ম্যাচটিকে হালকাভাবে নিচ্ছে না ভারতও। কোচ খালিদ জামিলের অধীনে সন্দেশ ঝিঙ্গান ও গুরপ্রীত সিং সান্ধুর মতো তারকাদের নিয়ে গড়া শক্তিশালী দল নিয়ে এরই মধ্যে ঢাকায় পা রেখেছে তারা। কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে অনুশীলন সারছে দলটি। ডিফেন্ডার সন্দেশ ঝিঙ্গান জানিয়েছেন, আগের ম্যাচের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার জয়ের জন্যই মাঠে নামবেন তারা।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের জন্য এই ম্যাচটি শুধু একটি জয় নয়, নিজেদের ফুটবলীয় অগ্রগতির একটি প্রতীকী স্বীকৃতি। ঘরের মাঠে, হাজারো দর্শকের গগনবিদারী চিৎকারের সামনে ভারতের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারানোটা হবে দলের জন্য এক বিশাল মাইলফলক।
সুতরাং, ১৮ই নভেম্বরের রাতটি কেবল একটি ফুটবল ম্যাচের রাত নয়; এটি হতে যাচ্ছে দুই দেশের ফুটবল সমর্থকদের আবেগ, প্রত্যাশা আর ৯০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস এক লড়াইয়ের গল্প, যেখানে জেতার ক্ষুধা পয়েন্টের চেয়েও অনেক বেশি দামী।
Analysis | Habibur Rahman


