
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আসে। সেই প্রেক্ষাপটে ক্ষমতা হারিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন Sheikh Hasina। এরপর থেকেই তাকে ঘিরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের একটি জটিল অধ্যায় তৈরি হয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্র বলছে, নয়াদিল্লি থেকে তাকে তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে Sheikh Hasina সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে জানা গেছে। বরং তিনি ভারতে অবস্থান চালিয়ে যেতে আগ্রহী।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করার দাবি বারবার জানানো হয়েছে। কিন্তু India এখনো এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে বিষয়টি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি করছে।
ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-এর সরকার একদিকে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে চায়, অন্যদিকে সাবেক একজন ক্ষমতাধর নেতাকে আশ্রয় দেওয়ার বাস্তবতা সামাল দিতে হচ্ছে। এই দ্বৈত অবস্থানকে বিশ্লেষকরা “কূটনৈতিক ভারসাম্যের চ্যালেঞ্জ” হিসেবে দেখছেন।
এছাড়া ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Amit Shah অতীতে অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। সেই প্রেক্ষাপটে একজন বিদেশি সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে বলেও মত বিশ্লেষকদের।
বিশ্লেষকদের মতে, India হয়তো শুরুতে এই বিষয়টিকে একটি কৌশলগত সুবিধা হিসেবে দেখেছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে এটি কূটনৈতিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে বাংলাদেশ সরকারের প্রত্যাশা, অন্যদিকে নিজস্ব নীতি ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি—সব মিলিয়ে দিল্লি এখন একটি জটিল অবস্থানে রয়েছে।
সবকিছু মিলিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়—এই অচলাবস্থার সমাধান কীভাবে হবে? হাসিনার ভবিষ্যৎ অবস্থান এবং দুই দেশের সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেবে, তা এখন সময়ই বলে দেবে।
