.
জাতীয়

বর্জ্য পোড়ানোর ছবি পাঠালেই মিলবে পুরস্কার: বায়ুদূষণ রোধে সরকারের নতুন কৌশল

Email :32

১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৫শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি রাত ২:১৩ বৃহস্পতিবার শীতকাল

শীতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর বাতাস ভারী হতে শুরু করেছে। ধুলোবালির সঙ্গে যোগ হয়েছে যত্রতত্র আবর্জনা পোড়ানোর বিষাক্ত ধোঁয়া। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবার নাগরিকদের সরাসরি সম্পৃক্ত করার এক অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য পোড়ানোর প্রমাণসহ ছবি তুলে পাঠালেই সচেতন নাগরিকদের জন্য থাকছে পুরস্কারের ব্যবস্থা।

মঙ্গলবার (আজ) মন্ত্রণালয় থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। বায়ুদূষণ রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক তৎপরতা জোরদার করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

রাজধানীর সড়কে সকালে আবর্জনা সংগ্রহ করে তা পোড়ানো হচ্ছে। রাজধানীর পূর্ব তেজতুরী বাজারপ্রথম আলো ফাইল ছবি

কীভাবে অংশ নেবেন এই উদ্যোগে?
সরকারের এই উদ্যোগে অংশ নিতে হলে নাগরিকদের ‘সচেতন প্রহরী’র ভূমিকা পালন করতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কোথাও বর্জ্য পোড়ানোর ঘটনা চোখে পড়লে তার ছবি তুলে ই-মেইলের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাতে হবে।

  • ই-মেইল ঠিকানা: climatechange2@moef.gov.bd
  • যা যা উল্লেখ করতে হবে: ছবির সঙ্গে আবশ্যিকভাবে প্রেরকের নাম, মোবাইল নম্বর, ঘটনার সঠিক স্থান, এলাকার পূর্ণ ঠিকানা এবং ছবি তোলার সময় উল্লেখ করতে হবে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রাপ্ত ছবিগুলো প্রতি মাসে যাচাই-বাছাই করা হবে। এর মধ্য থেকে সেরা ১০টি ছবি বা তথ্য দাতাকে নির্বাচিত করে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে উপযুক্ত পুরস্কার।

কেন এই উদ্যোগ?
শীতকালে বা শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশে বায়ুদূষণের মাত্রা ভয়াবহ আকার ধারণ করে। বিশ্বব্যাংকের ‘ক্লিয়ারিং দ্য এয়ার: অ্যাড্রেসিং বাংলাদেশ’স এয়ার পলিউশন ক্রাইসিস’ (নভেম্বর, ২০২৪) শীর্ষক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকার বায়ুদূষণে উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য পোড়ানোর অবদান প্রায় ১১ শতাংশ। অর্থাৎ, শুধুমাত্র বর্জ্য পোড়ানো বন্ধ করা গেলে দূষণের মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা সম্ভব। সরকার আশা করছে, পুরস্কারের ঘোষণার ফলে নাগরিকরা আরও বেশি সতর্ক হবেন এবং বর্জ্য পোড়ানোর প্রবণতা কমবে।

দূষণে কমছে গড় আয়ু ও বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি
বায়ুদূষণ বর্তমানে বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য এক বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এয়ার কোয়ালিটি লাইফ ইনডেক্সের (একিউএলআই) গত আগস্টে প্রকাশিত ২০২৫ সালের বার্ষিক হালনাগাদ তথ্যে দেখা গেছে, বায়ুদূষণের কারণে বাংলাদেশিদের গড় আয়ু প্রায় সাড়ে ৫ বছর কমে যাচ্ছে।

১৯৯৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দেশের বাতাসে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর পিএম ২.৫ কণার ঘনত্ব বেড়েছে ৬৬ দশমিক ২ শতাংশ। এই দূষণের কারণে মানুষের আয়ু আরও ২ দশমিক ৪ বছর হ্রাস পেয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের মতো অত্যধিক দূষিত অঞ্চলগুলোতে যদি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মানদণ্ড অনুযায়ী বায়ুমান নিশ্চিত করা যেত, তবে সেখানকার বাসিন্দাদের গড় আয়ু ৬ দশমিক ২ বছর পর্যন্ত বাড়তে পারত।

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে শিশুরা
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বায়ুদূষণের সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছে শিশুরা। দেশে প্রতি ঘণ্টায় বায়ুদূষণজনিত কারণে দুই শিশুর মৃত্যুর মতো মর্মান্তিক তথ্য উঠে এসেছে বিভিন্ন গবেষণায়। হাসপাতালগুলোতে শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা নিয়ে ভর্তি হওয়া শিশুর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে শিশুদের নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিস এবং অ্যাজমার প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। পাশাপাশি বাড়ছে যক্ষ্মার ঝুঁকিও।

এমন পরিস্থিতিতে সরকারের এই পুরস্কার ঘোষণা কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি সুস্থ পরিবেশ উপহার দেওয়ার আন্দোলনে নাগরিকদের যুক্ত করার প্রয়াস বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Analysis | Habibur Rahman

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts